হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে লেবানন ও ইসরাইলের ভিন্ন সুর

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে লেবানন ও ইসরাইলের ভিন্ন সুর
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সঙ্গে চলমান আলোচনায় লেবাননের আলোচনাকারীরা দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্টিমসন সেন্টারের মিডল ইস্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর রান্ডা স্লিম।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

রান্ডা স্লিম বলেন, ‘বর্তমানে দুটি ঘড়ি সচল রয়েছে, যা একে অপরের সাথে মিলছে না।’

তিনি জানান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র চায় হিজবুল্লাহ অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণ করুক। অন্যদিকে, লেবাননের কর্মকর্তাদের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করার ‘সব ধরনের অনুপ্রেরণা, উদ্দেশ্য এবং ইচ্ছা’ থাকা সত্ত্বেও তারা বিষয়টিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে লেবাননের অভ্যন্তরে এখনো একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও জনমত জরিপ অনুযায়ী, লেবাননের বহু মানুষ হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে।

লেবাননের শিয়া জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে স্লিম বলেন, শিয়াদের অধিকাংশই তাদেরকে এই যুদ্ধে টেনে আনার জন্য হিজবুল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরোধী। তবে তারা এখনো নিরস্ত্রীকরণের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। কারণ তারা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করে।

আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, ইসরাইলিরা প্রক্রিয়াভিত্তিক আলোচনায় অত্যন্ত দক্ষ। তাই তারা এই প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘ সময় ধরে টেনে নিয়ে যেতে পারে। তারা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাটিতে তার কোনো ফলাফল দেয় না।’

প্রমাণ হিসেবে তিনি দশকের পর দশক ধরে চলা ফিলিস্তিনি আলোচনার উদাহরণ টেনে আনেন।

রান্ডা স্লিম মনে করেন, এই অচলাবস্থা ভাঙার একমাত্র উপায় হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ব্যক্তিগতভাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চাপ প্রয়োগ করেন। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন ইরানের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ায় লেবানন তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র: আলজাজিরা

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...