হরমুজ সংকটে রাশিয়া কি ইরানের অর্থনৈতিক ভরসা হতে পারবে?

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

হরমুজ সংকটে রাশিয়া কি ইরানের অর্থনৈতিক ভরসা হতে পারবে?

ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী চাপের মুখে পড়তে পারে যদি হরমুজ প্রণালিতে নৌপথ অবরোধ বা বড় ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির নজর এখন উত্তরের দিকে, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও উপসাগরীয় রুটে অস্থিরতার কারণে ইরান ধীরে ধীরে নতুন বাণিজ্যপথের দিকে ঝুঁকছে—যার মধ্যে রেলপথ, কাস্পিয়ান সাগরের বন্দর এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা নেটওয়ার্ক অন্যতম।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যান। সেখানে তিনি মস্কোর “দৃঢ় সমর্থন”-এর প্রশংসা করেন এবং হরমুজ পরিস্থিতি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্য বাড়লেও সীমিত পরিসরে

২০১৮ সালে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান-রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি। বর্তমানে বাণিজ্যের মূল অংশে রয়েছে গম, বার্লি, ভুট্টা, ধাতু, যন্ত্রপাতি এবং সারজাত পণ্য। পাশাপাশি ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করেছে বলেও জানা যায়। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকটা একই ধরনের হওয়ায় এই বাণিজ্য সম্পর্ক এখনও সীমিত।

নতুন বিকল্প রুট

দুই দেশের প্রধান সংযোগ হচ্ছে আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহন করিডর (আইএনএসটিসি), যা রাশিয়াকে ইরানের মাধ্যমে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। এই রুটে কাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে পণ্য পরিবহন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথ কিছুটা সহায়তা দিতে পারে, তবে এটি হরমুজ প্রণালীর মতো দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক প্রবাহের বিকল্প হতে পারবে না।

সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়, যা দ্রুত স্থলপথে প্রতিস্থাপন করা কঠিন। স্থলপথে রূপান্তর হলে খরচ বাড়বে, সময় বেশি লাগবে এবং পচনশীল পণ্যের ক্ষতি হতে পারে।

এছাড়া রাশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ইউক্রেন যুদ্ধের চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে পারবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

রাশিয়া কি সত্যিই “লাইফলাইন” দিতে পারবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সীমিত সহায়তা সম্ভব হলেও রাশিয়া ইরানের তেল-নির্ভর অর্থনীতির বিকল্প হতে পারবে না। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, উপসাগরীয় সংকট দীর্ঘ হলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ সংকটে রাশিয়া ইরানের জন্য আংশিক সহায়ক হতে পারে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করা এখনো অনেকটাই সীমিত সম্ভাবনার বিষয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...