ইসরাইলিদের হাতে মার্কিন আইনপ্রণেতা আটক, কী করবেন ট্রাম্প!

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইসরাইলিদের হাতে মার্কিন আইনপ্রণেতা আটক, কী করবেন ট্রাম্প!

অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় সশস্ত্র ও অবৈধ ইসরাইলি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সদলবলে আটক হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্না। গত শনিবার তিনি এ ঘটনার কথা উল্লেখ করে একে দখলদারিত্বের অধীনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতার এক নির্মম চিত্র বলে বর্ণনা করেন।

ফিলিস্তিনি গ্রাম তুরমুস আইয়ায় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্রেট নেতা বলেন, ঘটনাটি ঘটে যখন তার প্রতিনিধি দলটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলের খিরবেত জানুতা নামক একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিল। ক্রমাগত বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে এই গ্রামের বাসিন্দারা আগেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রো খান্না জানান, তারা যখন ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেই গ্রাম এবং সেখানকার একটি বিধ্বস্ত বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখছিলেন, ঠিক তখনই সশস্ত্র ইসরাইলিরা তাদের গাড়িটি ঘিরে ফেলে।

খান্না রয়টার্সকে বলেন, ‘ওরা স্কুলটি ধ্বংস করেছে, পুরো গ্রামটিই শেষ করে দিয়েছে। এই গুন্ডারা আমেরিকার তৈরি এম-৪ মেশিনগান নিয়ে এসে আমাদের আটকে রাখে। তারা রাস্তা অবরোধ করে। এরপর তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে খবর দেয় এবং আইডিএফ এসে ওই আমেরিকানদের পক্ষে নয়, বরং হামলাকারী বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয়।’

খান্নার সঙ্গে থাকা তার সহকারী ক্যামেরন কাস্কি জানান, ইসরাইলি পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সহায়তার জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও যোগাযোগ করেছিলেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, খিরবেত জানুতার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা গাড়ি আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল।

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলটিকে তাদের গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে এই বিষয়ে ইসরাইলি পুলিশ এবং জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

খিরবেত জানুতা গ্রামটি বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম আকার ধারণ করা ইসরাইলি সহিংসতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। বারবার হামলার শিকার হয়ে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলিদের হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির তথ্য নথিবদ্ধ করেছে।

রো খান্নার এই সফরটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরাইল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রতি মার্কিন নীতি কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খান্না বলেন, তিনি এটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন এবং এই সফর তার সেই চিন্তাভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

এই কংগ্রেস সদস্যের মতে, মার্কিন ভোটারদের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুটির রাজনৈতিক ও নৈতিক গুরুত্ব কতটা গভীর, তা ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক নেতাই অনুধাবন করতে পারছেন না।

খান্না বলেন, ‘আপনি যদি ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতে না পারেন, গাজার গণহত্যা কিংবা পশ্চিম তীরের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারেন, তবে আপনার নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।’

খান্না আরও জানান, তিনি কোনো অফিশিয়াল ইসরাইলি কর্মসূচি ছাড়াই কেবল ফিলিস্তিনিদের ব্যবস্থাপনায় এই সফরের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে পারেন।

তার এই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিন আগে, ওবামা প্রশাসনের সাবেক হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ এবং সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রাহম ইমানুয়েলও তেল আবিব সফরকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার দীর্ঘদিনের সমর্থন দিন দিন কমছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন