ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নেওয়া ৭৮০ কেজি বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক জব্দের ঘটনায় লেবাননের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাকটির সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছেন সংগঠনটির এক আইনপ্রণেতা। এ ঘটনায় বিস্ফোরক পাঠানোর নির্দেশদাতা, অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন রুবিও। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, এ সময় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নেওয়া বিস্ফোরক জব্দের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
আউন রুবিওকে আশ্বস্ত করেন, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র জব্দে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, রুবিও বিস্ফোরক পাঠানোর নির্দেশদাতা, অর্থ জোগানদাতা ও পরিচালনাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহর কাছে বিস্ফোরক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, উত্তেজনা এড়াতে লেবানন ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ চালুর পক্ষেও মত দিয়েছেন রুবিও।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন রুবিওকে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন রুবিও। ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গ উঠে আসে।
বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকে ৭৮০ কেজি বিস্ফোরক
গত সপ্তাহে বৈরুত থেকে পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় যাওয়ার মহাসড়কে বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকটি আটক করা হয়। লেবাননের বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ট্রাকটিতে মোট ৭৮০ কেজি বিস্ফোরক ছিল। এর মধ্যে ২৫০ কেজি টিএনটি এবং ৫৫০ পাউন্ড সি-ফোর প্লাস্টিক বিস্ফোরক ছিল।
বৃহস্পতিবার লেবাননের পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ। তিনি ট্রাকটির চালানটির সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেন।
তার ভাষ্য, বিস্ফোরকগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।
ফাদলাল্লাহ বলেন, ট্রাক ও বিস্ফোরকগুলোর মালিকানা স্পষ্ট করতে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। জব্দ করা বিস্ফোরক ফিরিয়ে দেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সোমবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় জড়িত হিজবুল্লাহর সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত করা হবে। বিস্ফোরক পরিবহনের ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বৈরুতের সঙ্গে বেকা উপত্যকাকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ট্রাকটি আটক করায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসাও করেন সালাম।
হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ
বহু বছর ধরে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে অস্ত্র পরিবহন করেছে হিজবুল্লাহ। তবে গত মার্চে দেশটির সরকার সংগঠনটির সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে। সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে অস্ত্র পরিবহন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও শুরু হয়েছে। চলতি বছরের বসন্তের শুরুতে মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। কয়েক দশকের মধ্যে সেটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ।
তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের পরও ২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। লেবানন প্রায়ই ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে অসংখ্য গ্রাম পরিকল্পিতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো ইসরাইলি সেনাদের দখলে রয়েছে। জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা সই হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

