চুক্তি না হতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী ইসরাইলি মিডিয়া

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

চুক্তি না হতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী ইসরাইলি মিডিয়া
ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর সমর্থক ও তার বার্তা প্রচারকারী হিসেবে পরিচিত ডানপন্থি টেলিভিশন স্টেশন ‘চ্যানেল ১৪’। ট্রাম্পের এক সময়ের একনিষ্ঠ সমর্থক এই চ্যানেলটির সুর এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর থেকেই চ্যানেলটির প্রভাবশালী সঞ্চালক ও বিশ্লেষকেরা ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।

এই চুক্তিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়েছে-এমন শঙ্কায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হতে পারেন, এই ভয়ে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি সরকার প্রকাশ্যে কোনো সমালোচনা করছে না। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের হয়েই চ্যানেল ১৪-এর তারকারা এই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এর পাশাপাশি নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রুক্ষ আচরণও ইসরাইলি শিবিরকে আঘাত করেছে। ট্রাম্প জনসমক্ষে নেতানিয়াহুকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলেছেন, ‘আমি যা বলব সে তাই করবে।’

এমনকি এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করার বিষয়টিরও সত্যতা মিলেছে।

উপস্থাপক বিশ্লেষকদের তীব্র আক্রমণ

চ্যানেল ১৪-এর জনপ্রিয় টকশো ‘দ্য প্যাট্রিয়টস’-এর সঞ্চালক ইয়িনন মাগাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প একজন লুজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।’

অথচ মার্কিন নির্বাচনের রাতে এই মাগালই ‘ট্রাম্প ২০২৪’ ক্যাপ পরে লাইভ অনুষ্ঠান করেছিলেন। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হিব্রু ভাষায় ‘নিচ বা নর্দমার কীট’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া ট্রাম্পের আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ভাইদের বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ এনে তাদের অবমাননাকর ভাষায় ‘জিউবয়েজ বা ইহুদি বালক' বলে উপহাস করেছেন। মাগালের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলের অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল)।

চ্যানেলটির আরেক তারকা এবং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াকভ বারদুগো অন-এয়ারে ট্রাম্প এবং ভ্যান্সকে হিটলারের প্রতি তোষণ নীতি গ্রহণকারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলিনের সঙ্গে তুলনা করে ‘আধুনিক চেম্বারলিন’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি উইটকফ ও কুশনারের দলকে ‘আবাসন ব্যবসায়ী’ এবং তাদের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া বুধবার চ্যানেলটির অন্যতম তারকা শিমন রিকলিন ইংরেজিতে লিখেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের আয়াতুল্লাহদের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

চ্যানেলের অন্যান্য প্যানেলিস্ট যেমন যোতাম জিমরি বলেছেন, ‘ট্রাম্প এমন একজন প্রেসিডেন্ট যিনি আমাদের সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন, আবার সবচেয়ে বেশি হতাশও করেছেন।’

রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার যারা জেরেড তার মনোলগে বলেন, ‘ইসরাইলের মানুষ ট্রাম্পের আগেও ছিল এবং ট্রাম্পের পরেও থাকবে।’

চ্যানেল ১৪ নেতানিয়াহুর অবস্থান

চ্যানেল ১৪-এর মুখপাত্র ওমের মেইরি দাবি করেছেন, চ্যানেলটি কোনো রাজনীতিকের আদেশে চলে না এবং এখানে মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। চুক্তিটি প্রকাশের পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও এই চ্যানেলে সমালোচিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

তবে ইসরাইলি গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তির ফলে সৃষ্ট কূটনৈতিক বিপর্যয়ের দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মুক্ত রাখতেই ট্রাম্পের ওপর এই আক্রমণের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সোমবার এক টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বেশ সংযত প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি বলেন, তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায়শই একমত হন, তবে কখনো কখনো সেরা পরিবারগুলোর মতোই তাদের মধ্যেও কিছুটা দ্বিমত তৈরি হয়।

নেতানিয়াহু সংযত থাকলেও তার সমর্থক চ্যানেল ১৪ ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত আক্রমণাত্মক ভিডিও ক্লিপ ও ট্রান্সক্রিপ্ট তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করে এই ক্ষোভের আগুন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন