বিবিসির বিশ্লেষণ

ইরানের পারমাণবিক আলোচনায় নেতৃত্বে কে আছেন?

আমার দেশ অনলাইন

ইরানের পারমাণবিক আলোচনায় নেতৃত্বে কে আছেন?
ছবি: প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও সাথে দুজন সামরিক কর্মকর্তা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পারমাণবিক আলোচনার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে নিয়মিত মন্তব্য করতেন এবং আলোচনার মূল দিকনির্দেশনা দিতেন।

যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের তৃতীয় দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়, যার কারণে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খামেনি নিজে কখনো আলোচনায় সরাসরি অংশ না নিলেও, ইরানের প্রতিনিধি দল সবসময় তার নির্দেশনা অনুসরণ করেই আলোচনায় অংশ নিত বলে জানানো হতো। তবে তার মৃত্যুর পর নেতৃত্বে কে রয়েছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, তার পুত্র বর্তমান দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যদিও তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি, তার বার্তাগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি তার পিতার মতোই পশ্চিমা-বিরোধী অবস্থান বজায় রেখেছেন।

এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেনি, যারা “বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছে। তবুও কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় রয়েছেন।

এর মধ্যে অন্যতম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি একাধিক দফা পারমাণবিক আলোচনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকেও সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে; তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও উপস্থিত হয়েছেন।

ইরানের শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। রাষ্ট্রপতি সরকার পরিচালনা করলেও, ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি একটি শক্তিশালী সমান্তরাল কাঠামো হিসেবে কাজ করে, যার প্রভাব বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

চলমান যুদ্ধ এবং গত ১২ দিনের যুদ্ধে আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি শূন্যপদ পূরণের জন্য প্রস্তুত বিকল্প নেতৃত্ব আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইরানের পারমাণবিক আলোচনার নেতৃত্ব একাধিক ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...