পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করল সালিশি আদালত

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

সিন্ধু পানি চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি-আইডব্লিউটি) বহাল রেখে রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ)। এতে বলা হয়েছে ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। আদালতের এই সম্পূরক রায়কে পাকিস্তান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধু নদব্যবস্থার পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের ‘রান-অব-দ্য-রিভার’ প্রকল্পগুলো নিম্নপ্রবাহে পানির প্রবাহ কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও কিশেঙ্গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা-সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে আদালত ‘সাপ্লিমেন্টাল অ্যাওয়ার্ড কনসার্নিং ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ’ জারি করে। এতে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর চুক্তিভিত্তিক সুস্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এসব সীমা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রকল্প পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায় থেকেই তা কার্যকর হবে।

পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানির ধারণক্ষমতা বা ‘পন্ডেজ’ অবশ্যই প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্য পরিচালনা পদ্ধতি, নদীর জলপ্রবাহ, জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাহিদা এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। শুধু ভবিষ্যতে পানি ব্যবহারে সংযমের আশ্বাস দিলেই চুক্তির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

আদালত আরো বলেছে, পাকিস্তানকে পর্যাপ্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা ভারতের পক্ষ থেকে দিতে হবে যাতে ইসলামাবাদ চুক্তি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পারে। ভারত যদি যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রস্তাবিত পন্ডেজ চুক্তির শর্ত পূরণ করছে এটি প্রমাণের দায়ও তারা পালন করতে পারবে না।

পাকিস্তান জানায়, তারা সিন্ধু পানি চুক্তি, এর বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং পানি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৮ আগস্টও পিসিএ পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়ে বলেছিল, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি পাকিস্তানের ‘অবাধ ব্যবহারের’ জন্য প্রবাহিত হতে দিতে হবে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান এই মামলা দায়ের করেছিল।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আদালতের এই কার্যক্রমকে ‘অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত সালিশি আদালত’ আখ্যা দিয়ে রায়কে অকার্যকর ও বাতিল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভারতের এ অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত মনজুরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে ভারত কার্যত আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপেক্ষার পর এবার ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আদালতের বাধ্যতামূলক রায়ও মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

মনজুরুল হক আরো সতর্ক করে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন