ইউক্রেনে হামলা আরো জোরদার করছে রাশিয়া, ন্যাটোর দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান

ইউক্রেনে হামলা আরো জোরদার করছে রাশিয়া, ন্যাটোর দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান

ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের কোনো কার্যকর পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। শীত সামনে রেখে রাশিয়া বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরো জোরদার করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরাজয় স্বীকার করার চেয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকেই বেশি পছন্দ করছেন।

ইউক্রেন এখন এমন এক শীতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে রুশ বিমান হামলা দেশটির বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আরো ভয়াবহ চাপ তৈরি করতে পারে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোয় হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলা শুধু সামরিক অভিযান নয়; ইউক্রেনের প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার জন্য ভয় ও দুর্ভোগকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্য ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ বাড়লেও পুতিন নিজের পরাজয় মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। বরং তিনি ইউক্রেনের প্রতিরোধকে দুর্বল করে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সংঘাত একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ রূপ নিতে পারে।

এ অবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান ও অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ইউক্রেনকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতি পূরণ করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়নি। ফলে রুশ হামলার মুখে ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষাগত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইউক্রেনের অনেক মানুষ শান্তি চান; কিন্তু সেই শান্তির বিনিময়ে তারা নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নন। যুদ্ধ বন্ধের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও টেকসই শান্তির জন্য এমন কোনো সমাধান প্রয়োজন, যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে উপেক্ষা করবে না।

ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে গাজা ও ইরানের সংঘাতে সহিংসতা দীর্ঘায়িত হওয়ার একটি কারণ হলো কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক বাধ্যবাধকতার প্রতি দায়বদ্ধতার ঘাটতি এবং জবাবদিহিহীনতার সংস্কৃতিও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো ও পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর আরো দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি, যাতে মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ কমানো যায়। কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে যুদ্ধের অবসান ঘটানো কঠিন হতে পারে।

তবে এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাত আরো বাড়িয়ে দিতে পারে কি না, সে ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলো যদি দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং রাশিয়ার ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে না পারে, তাহলে ইউক্রেনে যুদ্ধ আরো দীর্ঘ হতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকাল চলতে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। পুতিনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পের বিপরীতে পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর আরো ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন। ন্যাটোকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যা একদিকে ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াবে এবং অন্যদিকে রাশিয়াকে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার মূল্য সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন