কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কৃষ্ণসাগর দিয়ে নতুন শস্য পরিবহন করিডর চালুর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন তিনি।
শনিবার ইস্তাম্বুলে জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, বেসামরিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে পক্ষই এ হামলা চালাক না কেন, তা মেনে নেওয়া যায় না।
এরদোয়ান বলেন, ‘বেসামরিক জাহাজে হামলা এবং কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তোলে এমন কর্মকাণ্ড কারো স্বার্থ রক্ষা করে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে পক্ষই এসব হামলা চালাক বা যে যুক্তিই দেখানো হোক, কোনো অবস্থাতেই আমরা তা মেনে নিতে পারি না। এ বিষয়ে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এরদোয়ানের এ বক্তব্যের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কৃষ্ণসাগরে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। এর লক্ষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্য এবং জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ করা।
মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখে তুরস্ক। তবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আঙ্কারা। হামলা বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে দেশটি। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি।
শস্য পরিবহন করিডর চালুর উদ্যোগ
জেলেনস্কি বলেন, কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে রাশিয়া। এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহন করিডর চালুর বিষয়ে কাজ করতে আমরা সম্মত হয়েছি।’
তিনি জানান, কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে তুরস্ক সমর্থন দিচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে আমরা কিছু ধারণা ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছি, যা এ কাজে সহায়তা করতে পারে।’ এ সংলাপের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এরদোয়ান বলেন, নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তার মতে, ‘এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও নতুন গতি পাবে।’
তুরস্ক ও ভারতের দেওয়া শস্য পরিবহন চালুর প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। জর্জিয়ার আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও বলেন, ‘এটি বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।’
রুবিও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে চাই। এতে যুদ্ধের অবসান হবে না, তবে যুদ্ধের একটি বিশেষ দিকের সমাধান হবে।’
তুরস্কে আলোচনার সম্ভাবনা জেলেনস্কির
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন গতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা মনে করি, ন্যায়সংগত শান্তিতে কোনো পক্ষেরই পরাজিত হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘শান্তির পথ তৈরি করতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে আমরা প্রস্তুত।’
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা আয়োজন করেছে তুরস্ক। এরদোয়ানের মতে, এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, ‘কূটনীতির মাধ্যমে বাস্তব ফল অর্জন সম্ভব।’
বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে তুরস্কের সমর্থনের কথা জানান এরদোয়ান। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হওয়ার কথা।
জেলেনস্কি বলেন, এরদোয়ানের সঙ্গে এ আলোচনার কাঠামো নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্ক, ইউরোপ ও অন্যান্য অংশীদারকে যুক্ত করে আলোচনার বিকল্প এবং তুরস্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সব পর্যায় থেকে রাশিয়াকে বার্তা দিতে হবে যে শান্তির কোনো বিকল্প নেই এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

