রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পেরিয়েছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সময়ে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। তবে প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, কী কী কাজ হয়েছে এবং এসব কর্মসূচিতে বরাদ্দ ও ব্যয় কত—এসব নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
রাকসু নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে বিভিন্ন পদে থাকা প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে কিছু কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে, আবার কয়েকটি এখনো চলমান।
রাকসু কোষাধ্যক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনে এক বছরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ও বিভিন্ন সম্পাদকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৯ টাকা খরচ করেছেন রাকসু নেতৃবৃন্দ।
বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে কে কী কাজ করেছেন এই ১০ মাসে প্রত্যেক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পর্যালোচনা করে জানা গেছে সেই তথ্য। সেগুলো হলো-
ভিপি যা করেছেন : ১. বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রদর্শনী, ২. রান উইথ রাকসু, ৩. জুলাই জাদুঘর স্থাপন।
জিএস যা করেছেন: ১. রাকসু,সিনেট হল প্রতিনিধি সম্মেলন, ২. অ্যাডমিশন বুথ স্থাপন।
ক্রীড়া সম্পাদক যা করেছেন: ১.ভারত-বাংলাদেশ, নেপাল বাংলাদেশ, বিপিএল-এর ম্যাচ প্রদর্শনী, ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ব্যাগ প্রদান, ৩. স্টেডিয়াম, ছেলে ও মেয়েদের জিমনেসিয়ামে পানির ফিল্টার, ৪. প্রহেলা বৈশাখে মেঠো খেলা, ৫. রাবি খেলোয়াড়দের ট্রাভেল কিট, ৬. আন্তঃহল ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল আয়োজন ৭. বিভিন্ন খেলায় বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা (চলমান)।
বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ যা করেছেন: ১. বুদ্ধিজীবী ইবনে গোলাম সামাদ স্মরণে সেমিনার, ২. হাদিকে নিয়ে সেমিনার, ৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শীর্ষক সেমিনার, ৪. স্বাধীনতা দিবস পালন, ৫. রাকসু মাসিক পাঠচক্র, ৬. শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য, সামাজিক চিন্তার মুক্তি কতদূর শীর্ষক সেমিনার, ৭. চারটি প্রকাশনা, ৮. গনজোটের রায় বাস্তবায়নে গরিমসি শীর্ষক সেমিনার, ৯. ৫ই মে শাপলা গণহত্যা দিবসে টেবিল টক, ১০. একে ফজলুল হকের মৃত্যু দিবসে আলোচনা, ১১.নবীন বিতর্ক উৎসব, ১২. জুলাই-লেখন প্রতিযোগিতা,
১৩. সম্বলিত জুলাই; স্মৃতিচারণ ও চোখে আগামীর সেমিনার, ১৪. রাকসু জুলাই সংখ্যা (প্রকাশনা)।
সংস্কৃতি সম্পাদক যা করেছেন: ১.বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন, ২.পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত, ৩.কাওয়ালী সন্ধ্যা
৪. জহির রায়হান স্মরণে সিনেমা প্রদর্শনী, ৫.আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিযোগিতা
৬. বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন, ৭. জুলাই ২য় বর্ষপূর্তি,
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক যা করেছেন: ১. রাকসু ভবনে ওয়াইফাই, ২. এআই নিয়ে সেমিনার, ৩. গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে ওয়েবিনার (৭টি), ৪. প্রি আইইএলটিএস ও জব রাইটিং কোর্স, ৫. পলিটিক্স অ্যান্ড স্পোকেন ইংলিশ কোর্স, ৬. আন্তর্জাতিক এডুকেশন এক্সপো, ৪ ও ৫ নং কাজ চলমান থাকায় ভাউচার জমা দেননি। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে।
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক যা করেছেন: ১. সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা, ২. সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার, ৩. ফ্যাক্ট চেকিং কর্মশালা, ৪. ফোটোগ্রাফি কনটেস্ট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক যা করেছেন:
১. সাইবার থ্রেটস এন্ড ডিজিটাল ডিফেন্স সেমিনার ২.ওয়াডপ্রেস ক্যাম্পাস কানেক্টেড প্রোগ্রাম, ৩.দিনব্যাপী রাকসু সাইন্স এন্ড টেকনোলজি প্রেজেন্টস ফান্ডামেন্টাল আইটি প্রোগ্রাম
৪.ছেলে এবং মেয়েদের আবাসিক হলগুলোতে সার্ভে প্রোগ্রাম
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক যা করেছেন :
১. নারী উদ্যোক্তা মেলা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২. মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও সেমিনার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৩. ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস সেমিনার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৪. বিশ্ব হিজাব দিবসে হিজাব বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
৫. হলসমূহে ফার্স্ট এইড বক্স, বিপি মেশিন ও ওয়েট মেশিন প্রদান করা হয়েছে।
৬. কেন্দ্রীয় মসজিদে নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের অংশে কার্পেট স্থাপন করা হয়েছে। ৭. মহিলা জিমনেশিয়াম, স্টেডিয়াম ও বিএনসিসিতে ফার্স্ট এইড বক্স বিতরণ করা হয়েছে। ৮. নারীদের জন্য ‘নারীর কলমে জুলাই’ স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। (চলমান) ৯. নারী উদ্যোক্তা মেলা ফটো কনটেস্ট আয়োজন করা হয়েছে।
১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি একাডেমিক ভবনে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক যা করেছেন:
১. ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও মেন্টাল ওয়েলবিয়িং ওয়ার্কশপ
২. ক্লিন ক্যাম্পাস প্রজেক্ট ক্যাম্পেইন কর্মসূচি
৩. বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি
৪. ক্যাম্পাসে ও হলে মশা নিধন কর্মীসূচি ( কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সহায়তায়)
৫. ক্যাম্পাসে খাবার মনিটরিং
৬. বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি
রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভিপির দাপ্তরিক খাতে বরাদ্দ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ভিপির সামগ্রিক খাতে বরাদ্দ ৯ লাখ ৯০ হাজার ৩২৪ টাকা এবং উত্তোলনও হয়েছে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৩২৪ টাকা। সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্ধেক অর্থের ভাউচার জমা হয়েছে এবং বাকি অর্থের কাজ চলমান রয়েছে।
জিএসের দাপ্তরিক খাতে বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। জিএসের সামগ্রিক খাতে বরাদ্দ ও উত্তোলন হয়েছে ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া এজিএস খাতে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাকসুর ক্রীড়া বিভাগে বরাদ্দ ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৬১০ টাকা হলেও উত্তোলন করা হয়েছে ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ টাকা। নথিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম চলমান থাকায় বাকি অর্থের ভাউচার জমা হয়নি।
বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগে বরাদ্দ ১২ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং উত্তোলন করা হয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৫ টাকা। নথি অনুযায়ী, কার্যক্রম চলমান থাকায় বাকি অর্থের ভাউচার জমা হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং শেষ হওয়া কাজের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি বিভাগে বরাদ্দ করা হয়েছে ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ খাতেও জমা ও উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরতের কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মহিলা বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৬ টাকা। তথ্য ও গবেষণা বিভাগে বরাদ্দ ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা হলেও উত্তোলন করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট নথিতে কার্যক্রম চলমান এবং শেষ হওয়া কার্যক্রমের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন ২ লাখ ৭ হাজার টাকা, মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগে বরাদ্দ ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৮ টাকা এবং উত্তোলন ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন ৮২ হাজার টাকা এবং কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে বরাদ্দ ও উত্তোলন ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভিপির দাপ্তরিক খাতে বরাদ্দ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ভিপির সামগ্রিক খাতে বরাদ্দ ৯ লাখ ৯০ হাজার ৩২৪ টাকা এবং উত্তোলনও হয়েছে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৩২৪ টাকা। সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্ধেক অর্থের ভাউচার জমা হয়েছে এবং বাকি অর্থের কাজ চলমান রয়েছে।
জিএসের দাপ্তরিক খাতে বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। জিএসের সামগ্রিক খাতে বরাদ্দ ও উত্তোলন হয়েছে ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া এজিএস খাতে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাকসুর ক্রীড়া বিভাগে বরাদ্দ ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৬১০ টাকা হলেও উত্তোলন করা হয়েছে ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ টাকা। নথিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম চলমান থাকায় বাকি অর্থের ভাউচার জমা হয়নি।
বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগে বরাদ্দ ১২ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং উত্তোলন করা হয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৫ টাকা। নথি অনুযায়ী, কার্যক্রম চলমান থাকায় বাকি অর্থের ভাউচার জমা হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং শেষ হওয়া কাজের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি বিভাগে বরাদ্দ করা হয়েছে ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ খাতেও জমা ও উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরতের কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মহিলা বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৬ টাকা। তথ্য ও গবেষণা বিভাগে বরাদ্দ ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা হলেও উত্তোলন করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট নথিতে কার্যক্রম চলমান এবং শেষ হওয়া কার্যক্রমের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন ২ লাখ ৭ হাজার টাকা, মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগে বরাদ্দ ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৮ টাকা এবং উত্তোলন ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ ও উত্তোলন ৮২ হাজার টাকা এবং কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে বরাদ্দ ও উত্তোলন ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-ecf182.jpg)