চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলের ডুবোচরে দুই শতাধিক যাত্রী এবং অ্যাম্বুলেন্সবাহী মুমূর্ষু রোগী নিয়ে আটকে পড়া ‘ফেরি কপোতাক্ষ’ দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটে নিরাপদে পৌঁছেছে। মধ্যরাতে জোয়ারের পানি বাড়ার পর ফেরিটি উদ্ধার হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। তবে মাঝ সমুদ্রে দীর্ঘ সময় খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হয় ফেরি কপোতাক্ষ। কিন্তু যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাটার মুখে পড়ে চ্যানেলের পলি জমে থাকা ডুবোচরে আটকে যায়। ফেরির ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুসহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সংকটাপন্ন রোগী।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পৃথক প্রচেষ্টায় ট্রলারযোগে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য রান্না করা খাবার ও সুপেয় পানি পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক ও পোর্ট অফিসার নয়ন শীল জানান, জরুরি রোগী বহনকারী স্থানান্তরিত অ্যাম্বুলেন্স থাকায় নাব্যতা কিছুটা কম থাকা সত্ত্বেও ফেরিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফেরিটি চর থেকে মুক্ত হয় এবং বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় নিরাপদে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছায়।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

