সংস্কার কমিশনগুলো আরও সময় চায়

এম এ নোমান

সংস্কার কমিশনগুলো আরও সময় চায়

সুপারিশ পেশ করতে সংস্কার কমিশনগুলো সরকারের কাছে আরও সময় চেয়েছে। কমিশনগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ বিভাগসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব কমিশন গঠন করে দেয়।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন

বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর গত ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ পেশ করতে বলা হয়েছে। এ কমিশনের অপর সদস্যরা হলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাইয়েদ আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাজদার হোসেন।

পাঁচ সদস্যের এ কমিশন বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশের খসড়া তৈরি করেছে। কমিশনের শেষ সভায় কয়েকজন সদস্য প্রস্তুত করা সুপারিশ আরও যাচাই-বাছাই করে পেশ করতে কদিন সময় বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ কমিশনকে সুপারিশ পেশ করতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সময় বাড়ানোর বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আমাদের হাতে এখনও তিন দিন সময় আছে। সুপারিশের একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে। কমিশনের সর্বশেষ সভায় কয়েকজন সদস্য আরও কিছুদিন সময় নিয়ে প্রতিবেদনটি আরেকটু যাচাই-বাচাই করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এতে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সংশোধন করা যাবে।

পুলিশ সংস্কার কমিশন

জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য গত ৩ অক্টোবর সাবেক সচিব সফর রাজ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনকেও ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়। এ কমিশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আরও কিছুদিন সময় চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিশনের আহ্বায়ক সফর রাজ হোসেন আমার দেশকে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মন থেকে এ বাহিনীর বিষয়ে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা না থাকে, সে বিষয়টি সামনে রেখে আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের মতামত নিয়েছি।

তিনি বলেন, সবাই চান পুলিশ জনবান্ধব হোক। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ও অসুবিধাগুলোও আমাদের বের করে আনতে হচ্ছে। পুলিশেরও মতামত নেওয়া হয়েছে। আমরা রিপোর্ট তৈরির কাজ অনেকটাই শেষ করেছি। আমাদের আরও কিছুদিন সময় লাগবে এটি চূড়ান্ত করতে।

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সচিব বলেন, সরকার আমাদের ৯০ দিন সময় দিয়েছিল; কিন্তু আমরা আরও কিছুদিন সময় নিয়েছি। রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলেই আমরা সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করব।

দুদক সংস্কার কমিশন

বিদ্যমান দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করে সরকারের কাছে পেশ করতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন’ নামে ৮ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে সরকার। গত ৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত এ কমিশনকে প্রতিবেদন পেশ করতে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করতে এ কমিটি মন্ত্রিপরিষদের কাছে আরও কিছুদিন সময় চেয়ে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা।

কমিশনপ্রধান ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ৩ অক্টোবর সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তারা কাজ শুরু করেছে ৭ অক্টোবর। তাই ৭ জানুয়ারির মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করে দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে সরকার গত ৩ অক্টোবর একটি কমিশন গঠন করে দেয়। ৮ সদস্যের এ কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়।

কমিশনপ্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন পেশ করতে পারব। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

সংবিধান সংস্কার কমিশন

জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে দেশের বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও লেখক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বে গত ৬ অক্টোবর একটি কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনকেও সুপারিশ পেশ করতে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়।

তবে সুপারিশ তৈরি করতে আরও কিছুদিন সময় নেবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত কমিশন কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। আমার দেশকে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের মতামত নিয়েছি। এগুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে। চূড়ান্ত করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: