মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এসব তথ্য জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসহ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ভারতীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এই কমিটির সভাপতি।
প্রতিবেদনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নসহ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি, ভারতের নিরাপত্তা হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয় নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ এমন সব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎÑ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে। বৈঠকের মাত্র একদিন পরেই ভারতীয় সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন সামনে এলো, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কোনো ইস্যু নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, আমরা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু অস্বস্তির জায়গা রয়েছে। এগুলোর সুরাহা হতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুশইন, সীমান্ত হত্যা বিশেষ করে হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা নিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আপাতত দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু এই অস্থিরতার মাঝে হঠাৎ করেই ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান করবেন কি নাÑ সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছেÑ তারেক রহমানকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশবিষয়ক ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানায়, এর পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। আমাদের এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়টির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। হাসিনাকে চুপ রাখতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত দুই বছর ধরে দিল্লিকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই অনুরোধে কোনো সাড়া মেলেনি। এখন হঠাৎ করেই বলা হচ্ছেÑ ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ওই কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানায়, এবারের প্রতিবেদনে অনেক মিষ্টি ও শান্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এগুলো বাস্তবে রূপ নেবে কি নাÑ সেটি বড় ধরনের প্রশ্ন। লোকসভার এমপিরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময়ই ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু ভারতের বাংলাদেশ পলিসি কী হবেÑ তা নির্ধারণ করেন অন্যরা। আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবেÑ আগামী দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ডে থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।
কমিটি জানিয়েছে, আদালত হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি তারা আমলে নিয়েছে। বিষয়টির পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে কেন্দ্র সরকারকে তাদের অবহিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কমিটি জানিয়েছে, হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতার আদর্শ এবং গুরুতর দুর্দশা বা অস্তিত্বের সংকটের সম্মুখীন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার মানবিক ঐতিহ্যের’ আওতায় বিবেচনা করা হয়েছে। কমিটি আরো জানিয়েছে, সরকার স্পষ্ট করেছে, হাসিনাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রেও সেই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
কমিটি আরো সুপারিশ করেছে, সরকার যেন তার ‘নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ অব্যাহত রাখে। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলা করা নিশ্চিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত ‘পরিমিত ও হিসাব-নিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’অনুসরণ করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ভারত ‘ইতিবাচকভাবে’ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে কথা বলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বার্তা হস্তান্তর করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পার্লামেন্টারি কমিটি ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে’ সমাধান করার জন্য এটি একটি ‘দারুণ’ সুযোগ।
এদিকে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান ‘অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত’ সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি। এ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চীনের সহায়তায় উন্নত করা হচ্ছে, যা ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বড় শঙ্কার কারণ’ বলে পার্লামেন্টারি কমিটি মনে করছে। পাশাপাশি পেকুয়ায় চীনের সহায়তায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটি নিয়ে উদ্বেগের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
কমিটি ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে যেন তারা বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যকলাপ ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করে এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়। একইসঙ্গে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো মজবুত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে কয়েকজন ‘অপরাধী ও উগ্রপন্থি’ পালিয়ে যায়। এটা ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। সেখানে আরো দাবি করা হয়, এই ব্যক্তিরা বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২৪৪৬টি হামলার তথ্য কমিটির নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রথম আলো সংখ্যালঘুদের ওপর ২২০০-এর বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ যে এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে এ চুক্তির নবায়নকে দুই দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। কমিটি গঙ্গা চুক্তির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শিগগিরই এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার তাদের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ) সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, যা সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং সবার স্বার্থ রক্ষা করবে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি। চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি ভারতে যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ১৬ লাখের বেশি ভিসা ইস্যু করেছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর নিরাপত্তার কারণে ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে ভারতীয় কর্মীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভিসা কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে বলে কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা-সংক্রান্ত। কমিটি চিকিৎসার জন্য ভিসা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চালু থাকায় দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে পার্লামেন্টারি কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ ও ৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৩তম এলওসি পর্যালোচনা বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রাক্-বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা ১২টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে আটটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কমিটির মতে, উন্নয়ন সহযোগিতার প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ত করে ট্র্যাক ১.৫ ও ট্র্যাক ২ কূটনৈতিক উদ্যোগ আরো জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কথিত ভারতবিরোধী প্রচার মোকাবিলায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

