হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের করা মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ইতোমধ্যে ওই মামলায় আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই মামলার এজাহারে অন্যতম আসামি হচ্ছেন, গাজী নজরুল। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম আসামি এমপি গাজী নজরুল বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এছাড়াও অন্য আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের জন্য গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডিবি অফিসে তলব করা হতে পারে বলে জানা গেছে। মামলার এজাহারের কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করার জন্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে। মরিয়ম বর্তমানে ঢাকায় অবস্থায় করছেন।
ডিবি জানিয়েছে, গাজী নজরুলের যে ভিডিওটি ফাঁস হয়েছে সেই স্থানটি তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহের বলে দাবি করেছেন নজরুল। ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর এমপি নজরুল এক ফেসবুক স্টাটাসে তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে তার গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমান জড়িত। তিনি দলবল নিয়ে তার কক্ষে ঢুকে ব্লাকমেইলের চেষ্টা করেছেন। ভিডিও ফাঁসের কথা বলে টাকা আদায় করেছেন।
অপরদিকে, গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর দাবি করেছেন, তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন নজরুল এবং মারধর করেছেন। দুই পক্ষের অভিযোগ নিয়ে দোটানাই আছে মামলার তদন্তকারীরা। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে তারা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
গত মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ফাঁস হয়। ওই ভিডিওতে এমপি গাজী নজরুল এবং এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। মুহূর্তেই ওই ভিডিও দেশজুড়ে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত বুধবার জামায়াতে ইসলামী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, যে, নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে দলটি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার রাকিব খান জানান, তারা মামলার তদন্ত করছেন।’
মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাকে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
গাড়িচালক মামলার এজাহারে দাবি করেছেন, তিনি পল্লবীতে থাকেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
নজরুল ইসলামের ধারণা ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম এবং ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। পরে সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



