একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই চাষ করেছেন মশিউর রহমান মিলন।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে কৃষক মশিউর রহমান মিলনের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।
মশিউর রহমান মিলন বলেন, চারা লাগানোর ৮ মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়।
জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিনে দিনে চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও। কৃষি বিভাগ থেকে যদি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি গত বছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিনের বাগানে সর্বপ্রথম এই ফলের চাষাবাদ দেখি।
সেখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে আমার দুই বিঘা জমিতে রোপণ করি। কিছুদিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউগাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্রেআট মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।
দুই বিঘার বাগান করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি। মিলনের বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এই ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
ভেড়ামারা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারমলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

