নানা কৌশলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নতুন করে কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। তারা রাজনীতির মাঠে ফেরার অংশ হিসেবে জনমনে প্রভাব ফেলে এমন কিছু ইস্যু নিয়ে এগুতে চাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হামের টিকা সংক্রান্ত জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়কে সামনে এনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বিচারের দাবিতেও মাঠ গরমের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে খাটো করতে আইনি পদক্ষেপও নিচ্ছে তারা। তবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার তা এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিগুলোকে ক্রমান্বয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে। এখনই এর লাগাম টানা না হলে সরকারের জন্য এটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনটিকে রাজনীতিতে ন্যূনতম কোনো স্পেস বা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নস্যাৎ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রচণ্ড চাপে থাকা দলটি কিছুটা স্বস্তির খোঁজে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের দিকে তাকিয়েছিল। নির্বাচিত সরকার বিশেষ করে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা রাজনীতিতে কিছু স্পেস পাবে বলে প্রত্যাশা করেছিল। এজন্য দলটির একটি অংশ নির্বাচনে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি আস্থা স্থাপনের চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ বিএনপির পক্ষে প্রকাশ্যে ভোটও চেয়েছেন। নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপির কিছু নেতাকে তাদের নানা ধরনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগ যতটা আশাবাদী ছিল বাস্তবে সেটা দেখা যায়নি। নির্বাচনের পরপরই পুরো উদ্যমে বেশ কয়েকটি স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। দু-একটি জায়গায় বিএনপির একটি অংশের মদতে কার্যালয় খোলার অভিযোগ উঠলেও অন্য একটি অংশ গিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগকে হতাশ করেছে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশটি। দলটি ধারণা করেছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি ওই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করবে না। কিন্তু সরকার হুবহু ওই আইনটির বৈধতা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গা ভাব দেখা যায়। নির্বাচনের পরপরই আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন। গ্রেপ্তার হওয়া কিছু নেতার এ সময় জামিনও হয়। তবে জামিন পাওয়া নেতাদের নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার এবং আত্মপ্রকাশ করা নেতাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা আবারও চাপে পড়ে যায়।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের চরম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির তুলনায় খানিকটা ভালো আছেন। গত তিন মাসে তাদের বেশ কিছু নেতাকর্মী জামিনে বেরিয়ে এসেছে বলে তারা নিশ্চিত করেন। ৫ আগস্টের পরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতাকর্মী এরই মধ্যে দেশে ফিরেছে বলেও দাবি তাদের। তবে, এসব নেতা অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ এখন ভিন্ন কৌশল নিয়ে সামনে এগুনোর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে দলটি বর্তমান সরকারকে এড়িয়ে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে হেয় করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ওই সরকারের সময়কালের ‘অনিয়ম’, ‘অব্যবস্থাপনা’ ইস্যু করে জনমত গড়ে তুলতে চাচ্ছে। বিশেষ করে ‘হামের টিকার অব্যবস্থাপনা’ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সামনে এনে ড. ইউনূস ও তার সরকারের উপদেষ্টাদের বিচারের দাবি তুলছে। এক্ষেত্রে দলটি তাদের সমর্থিত পেশাজীবীদের সামনে রাখছে। ড. ইউনূস ও তার সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গতকাল রোববার হাইকোর্টে দায়ের করা রিটটি এরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এর পাশাপাশি নতুন আরেকটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এর আগে বিতর্কিত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সামনে রেখে আওয়ামী আইনজীবীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন। এ সময় তাদের জয়বাংলা স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বর্তমানে প্রকাশ্যে কথা বলার কেউ না থাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীরা ওই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ফ্যাসিস্টদের বাড়তে দেওয়াটা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না উল্লেখ করে তারা বলেন, আজ তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আগামীকাল সুযোগ পেলে বর্তমান সরকারকেও ছাড়বে না।
এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গত ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ও সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের আইনজীবীরা। তারা সেখানে দ্রুতই দলটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ১৭৩ জন সদস্য ওই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টকশো, পড কাস্টে অংশ নিয়ে অনেককে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে।
গত বছরের ১২ মে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আগে-পরে দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে মিছিলসহ চোরাগোপ্তা হামলা করে আসছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করতে গিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াও একাধিকবার জনরোষে পড়েছে। কখনো কখনো বিএনপি-জামায়াত ও জুলাইযোদ্ধাদের হাতে ধাওয়া খেয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে তাদের এই কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গতকালও রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এসব কর্মসূচি পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুব ভোরে বা রাতের বেলা তারা মিছিল করে। তাদের এসব মিছিল কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সম্প্রতি মারা যাওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক শোডাউন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। লাশ সামনে রেখে তাদেরকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এছাড়া গত মাসে রাতের বেলা লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর শপথ নিচ্ছেন মর্মে একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত কিছু কেন্দ্রীয় নেতাও জেলা, উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। নানা ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
সূত্রগুলো আরো জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে এসব অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফিরে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ধরনের বেশকিছু অডিও ক্লিপ আমার দেশের হাতে রয়েছে। এতে শোনা যায় শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বলছেন- যেখানে যেখানে কমিটি নেই সেখানে কমিটি করে একসঙ্গে নামতে হবে। কমিটি গঠনের বিষয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে শেখ হাসিনাকে নানা ‘উৎসাহমূলক’ কথা বলতে শোনা যায়। তার সাম্প্রতিক একটি অডিও বার্তায় শোনা যায়Ñ‘এই একটি নির্বাচন এখানেই শেষ হবে না। খুব শিগগির আবারো নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে। জনগণের ভোটেই আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হবে।’
শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে দলের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে উল্লেখ করেন। বলেন, আমি সময়মতো চলে আসব। তা ভাগ্যে আমার যা-ই থাকুক এ বছরের মধ্যে আমি দেশে আসব। বিশ্ব বাটপার কেমন দেশ চালিয়েছে তা মানুষ দেখেছে। এরা কেমন চালায় সেটাও মানুষকে একটু দেখতে হবে। একাধিক অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে বিগত সাড়ে ১৫ বছরের আদলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে দেখা গেছে। অবশ্য শেখ হাসিনার এসব অডিও ক্লিপের সতত্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে, এর অনেকই আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও দলটির চিহ্নিত নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেজে আপলোড করতে দেখা গেছে। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর পরই Bangladesh Awami League-এর পেজে ‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’ লেখা পোস্টার আডলোড করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেকেই ওই পোস্টার শেয়ার করার পাশাপাশি নিজেরা পৃথকভাবে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
অবশ্য দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করেন না শেখ হাসিনা সহসাই দেশে ফিরবেন। তারা মনে করেন, দলের নেতাকর্মীরা যাতে হতাশ হয়ে না পড়েন তার জন্য এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে সবাইকে চাঙ্গা রাখছেন।
এদিকে শেখ হাসিনার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকটি পর্যায়ে কিছু কমিটি গঠন করতে দেখা গেছে। এসব কমিটি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগসহ কয়েকটি সংগঠনের কমিটির তালিকা আমার দেশের হাতেও রয়েছে। জানা গেছে, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে দলের মধ্যে কম বিতর্কিত ছিল, বংশীয় ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী এবং ৫ আগস্টের পর বিভিন্নভাবে সক্রিয় থাকাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেও দলটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়নি বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক। আমার দেশকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি দল প্রশাসন, পেশাজীবী সংগঠন ও স্থানীয় নেটওয়ার্কে কিছু প্রভাব ধরে রাখে। বর্তমানে বিভিন্ন ইস্যু—যেমন হামলা, চুক্তি বা রাজনৈতিক বিচার—কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ মহল রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং ড. ইউনূসের বিচারের দাবিও সামনে আনছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিক, আইনজীবী ও অন্য পেশাজীবীদের ব্যবহার করার কৌশলও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য ও শক্তিশালীভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসা এখনো কঠিন উল্লেখ করে এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, কারণ দলটির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ, গ্রেপ্তার অভিযান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান এখনো কার্যকর রয়েছে। কিন্তু সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অনৈক্য, পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে ঘিরে কিছু দলের নরম অবস্থান ভবিষ্যতে দলটিকে ধীরে ধীরে আরো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিল করছে। এটা অবশ্যই সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল কীভাবে আষ্ফালন দেখানোর সাহস পায়, তা বোধগম্য নয়। আমার মনে হয়েছে, এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর নয়। তারা তৎপর হলে এসব কর্মকাণ্ড করতে পারত না।
তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগ ফিরে আসার চেষ্টা করবে। তবে বর্তমানে যারা সরকারে আছেন তারাসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব হবে বারবার আওয়ামী লীগের সেই দুঃশাসন, গুম-খুন, ব্যাংক ডাকাতি, অর্থপাচার ও জুলুম-নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো গুরুদায়িত্ব হিসেবে নিলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার চেষ্টা সফল হবে না।
ড. ইউনূস হাসিনা ও ভারতের বড় টার্গেট উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ক্ষমতায় থাকতে ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে শেখ হাসিনা কম চেষ্টা করেননি। ড. ইউনূস ক্ষমতায় গিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কাছেই ভারতপন্থিরা তার নিন্দামন্দ করবে, তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের উচিত হবে না, এই নিন্দামন্দের সুযোগ দেওয়া।
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সব নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যায়। দলের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন। এ সময়ে দলের বেশ কিছু নেতা গ্রেপ্তার হন। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম মূলত নিষিদ্ধই হয়ে পড়ে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
এমবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

