চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এই দুই উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী প্রমত্তা টংকাবতী নদী ওপর সেতু। দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আমিরাবাদ ইউনিয়নের ‘তিন খালের মুখ’ এলাকায় টংকাবতী নদীর ওপর একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ২২ মার্চ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে উত্তর-পশ্চিম আমিরাবাদ টংকাবতীর মুখ হতে কেয়াজুপাড়া ভায়া দরবেশহাট ডিসি সড়কে ৯০ দশমিক ৯২ মিটারের এই আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯৩ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নুর সিন্ডিকেট’।
চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট কাজ শুরু করে এবং ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে সময় বাড়ানো হলেও এখনো সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির জন্য প্রতিনিয়ত দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে সেতুর কাজ চলাকালীন বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থাও বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী স্থানে টংকাবতী নদীটি ডলু নদীর সঙ্গে মিশেছে এবং একই স্থানে বোয়ালিয়া খালের স্রোত এসে মিলিত হওয়ায় স্থানটি ‘তিন খালের মুখ’ বা ‘টর মুখ’ নামে পরিচিত। স্থানীয়রা প্রতি বছর নিজ উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করলেও বর্ষাকালে পানির তোড়ে সাঁকোটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখানে একটি স্থায়ী সেতুর।
সেতুটি নির্মিত হলে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া সদরের মধ্যকার দূরত্ব উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার সালমান বলেন, কাজের শুরুতে বর্ষা মৌসুমের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিল, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করতে পারি নি। তবে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ হবে ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

