বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ১৮৫ দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণ হয় মন্ত্রিসভার। গত শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন নতুন চার মন্ত্রী এবং দুই প্রতিমন্ত্রী।
ওই দিন মন্ত্রিসভায় রদবদলও হয়। এতে নতুন ছয় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টনসহ আগের দুই মন্ত্রীর দপ্তরও রদবদল হয়। এতে জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ দেওয়া হয়। আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণ ও রদবদলের ঘটনায় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার পর থেকেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি। ওই দিন রাষ্ট্রপতির মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবেও তিনি স্বাক্ষর করেন। কার্যত ওই দিন থেকে এই মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী মন্ত্রী হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে।
মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক সদস্য জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মূলত দেশের তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালনা ও তদারকি করে। প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষমতা এই মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় বিভাগের হাতে। সেই সঙ্গে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখে। এসব কারণে ক্ষমতাসীন দলের বিচক্ষণ, প্রভাবশালী ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির নীতিবির্ধারণী পর্যায়ের এই জ্যেষ্ঠ নেতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল বলেও জানিয়েছেন দলটির নেতারা। ড. আবদুল মঈন খান এর আগে খালেদা জিয়ার সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
বিমান মন্ত্রণালয়
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আফরোজা খানম রিতা ও এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ওই দিনই তাদের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিমানের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিমন্ত্রী ছয় মাসে মন্ত্রীর চেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
গত ২৫ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়া পিএলসির স্পন্সর পরিচালক ও বোর্ড নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেনকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। মন্ত্রিপরিষদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। তখনই আলোচনায় আসে প্রতিমন্ত্রী পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার ‘পদোন্নতি পেয়ে’ প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সেই সঙ্গে তিনি ওই মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্ব পান। অপরদিকে আফরোজা খানমকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই খাদ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রীবিহীন ছিল। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পার্বত্য মন্ত্রণালয়
সরকারের শুরু থেকেই অস্বস্তি ছিল পার্বত্য চট্রগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে। গত ১ জুন পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ছিলেন বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধের সূত্র ধরে মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন দীপেন দেওয়ান।
পার্বত্যমন্ত্রীর পদত্যাগের পর পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে। তারা উপজাতীয় সম্প্রদায় থেকে মন্ত্রী করারও দাবি জানায়। পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাঙামাটিতে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন। রাঙামাটি শহর ছাড়াও বাঘাইছড়ি, রাজস্থলী, কাউখালী (বেতবুনিয়া) ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই সময় থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিএনপি নেতা ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম আলোচনায় আসে।
বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের রাজপরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগেও তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও বান্দরবান আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তার বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা এবং রাজনীতিবিদ। তিনিও পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাচিং প্রু জেরীর নিকটাত্মীয় (মামি) মা ম্যা চিং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পালনের জন্য আগামী এক বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটা সময় কাটাতে হবে। এ সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরকে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনিই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক বিষয়াদি তদারকি করবেনÑএমনটিই জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আরেকটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিজেও। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে আস্থা রেখেছেন, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দেবেন, সেই দায়িত্বই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি গর্ব করি যে, আবার সুযোগ পেয়েছি। আরেকটা সুযোগ পেয়েছি দেশের জন্য কাজ করার।
তিনি বলেন, আমাদের ডে-টু-ডে কার্যক্রম দেশের ফরেন পলিসিকে, প্রধানমন্ত্রীর ফরেন পলিসি ভিশনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। এখানে কোনো ফ্র্যাগমেন্টেড গভর্নমেন্ট নেই। আমরা জয়েন্ট ওয়েতে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রীর অফিস, ফরেন মিনিস্ট্রি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় খুব ক্লোজলি কাজ করে। দেশের স্বার্থে কারো সঙ্গে যাতে কোনো কম্প্রমাইজ না হয়, এ বিষয়ে যেন অটল থাকতে পারি এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
তথ্য মন্ত্রণালয়
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে শুরু থেকে সব মহলে আলোচনায় আসেন জহির উদ্দিন স্বপন। তাকে এ মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হতে পারে এমন একটি আলোচনা বেশ কয়েকদিন ধরে জোরেশোরে চলতে থাকে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন এমন আলোচনাও ছিল। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের হয়ে তার ক্ষুরধার ও যুক্তিপূর্ণ ঝাঁজালো বক্তব্য বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে ফেলে। তার বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারদলীয় সদস্যরা মুহুর্মুহু করতালি ও টেবিল চাপড়ে উৎসাহ দেন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
শুক্রবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন ইয়াসির খান চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিকভাবে ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতা এখন একসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী লন্ডনে বিবিসিতে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় থেকেই পার্থর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। রাজনীতি ও বয়সে পার্থ ইয়াসির খানের সিনিয়র।
শুধু তাই নয়, দুই পরিবারের মধ্যেও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পার্থর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু এবং ইয়াসির খানের পিতা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আনোয়ারুল খান ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে একই আসন থেকে ইয়াসির খানের চাচা খুররম খান চৌধুরীও সংসদ সদস্য ছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই পার্থর মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তখন তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি।
তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দুই বন্ধু মিলে তথ্য ও গণমাধ্যমে সংস্কারসহ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চান। এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে পার্থর নিয়োগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান বলেন, সবাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কাজ করছি। আমরা টিমওয়ার্কে বিশ্বাস করি। আশা করি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।
ধর্ম মন্ত্রণালয়
মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। বর্তমানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার বিএনপির সরকারে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। এসব জেলার অধিবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে লিংকন নিয়োগ পেয়েছেন। যদিও তার এ নিয়োগের আগেই হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সংসদ সদস্য লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে ব্যারিস্টার রুমিনের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
বিবৃতিতে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিতর্কিত কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করে বর্তমান সরকার দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা দেশের সাধারণ জনগণের মনের ভাষা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশ। এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও হানাফি মাজহাবের অনুসারী আলেম-ওলামা ও স্কলাররা দ্বীনের প্রচার-প্রসার করে আসছেন।
অথচ এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করে গুটিকয়েক লোকের একটি ভ্রান্ত মতবাদের প্রচারককে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আলেম সমাজকে অবজ্ঞার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, আলেম-ওলামারা এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেও সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু সরকার তাদের প্রতিবাদ ও পরামর্শকে চরমভাবে অবজ্ঞা করেছে। এ ধরনের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।
অবিলম্বে লিংকনের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিতর্কিত মন্ত্রিত্ব বাতিল করে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও সঠিক দ্বীনের অনুসারীকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে হবে।
সরকারকে সতর্ক করে জুনায়েদ আল হাবিব আরো বলেন, আলেম-ওলামাদের দাবি মানা না হলে এবং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বিগত দিনে যেভাবে আলেম সমাজ সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছে, আগামীতে সেই সহযোগিতার হাত তারা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


