ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন বিএনপি সরকার। এর পরই নিয়মানুযায়ী সরকারি বাসভবন বরাদ্দ পাবেন দলটির নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করায় এবার নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠতে হতে পারে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ৪০টি বাসভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত আছে ৫০টি গাড়ি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে যমুনায় বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অবস্থান করছেন। নিয়মানুয়ায়ী নতুন সরকার শপথের পর সরকারি বাসবভন ছেড়ে দিতে হয় সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টাকে। এর পরই এটা প্রস্তুত করা হবে।
সূত্র আরো জানায়, রাজধানীর বেইলী রোড, মিন্টো রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৪০টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর আগে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা বিবেচনায় নেয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য আমরা ৪০টি বাসা প্রস্তুত করেছি। কয়েকটি বাসা আছে, যেগুলোর হাইজেনিক ওয়াশ, বাথরুম ফিটিংসসহ বেশকিছু কাজ পিডব্লিউডি করছে। আমাদের টিম বিষয়গুলো নিয়ে আজ (রোববার) ভিজিটে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন ইস্যুতে কথা হয়েছিল। তবে এটা থেকে সরে আসা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকার এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আবাসনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তুতি নেই। তিনি কোথায় থাকবেন, তা সম্পূর্ণ ওনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে রেডিমেড বা তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে একমাত্র ‘যমুনা’ প্রস্তুত আছে। তিনি যদি যমুনায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তবেই আমাদের সেটি রেডি করার কাজ শুরু হবে। তিনি নিজের বর্তমান বাসভবনেই থাকার ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন বা নতুন কোনো বাসভবন তৈরির কথাও বলতে পারেন। সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। সবকিছুই নির্ভর করছে ওনার নির্দেশনার ওপর।
নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ৫০ গাড়ি প্রস্তুত
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখতে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে নির্দেশনার আলোকে প্রাথমিকভাবে মন্ত্রীদের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভিভিআইপি প্রটোকলে সব সময় কয়েকটি গাড়ি বেশি প্রস্তুত রাখতে হয়। কোনো কারণে একটি গাড়ি নষ্ট বা দুর্ঘটনায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে যেন আরেকটি গাড়ি পাঠানো যায়, এজন্য অতিরিক্ত পাঁচটিসহ ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা কত সংখ্যার হবে, সেটা ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন। সরকার গঠনের আগে তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গাড়ির চাহিদা দেবে। সে অনুযায়ী সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর গাড়ি প্রস্তুত করবে। তবে এখন প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরকে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের বাসভবনে থাকতেন, যা পরে ভেঙে ফেলা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নতুন করে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২ আসনে জয় পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


সীতাকুণ্ডে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় বস্ত্র ও সিগারেট জব্দ