ছয় বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

ছয় বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গাছের ছায়ায় ক্লাস নিচ্ছেন এক শিক্ষক।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গ্রামের মানুষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ছয় বছর ধরে আটকে আছে খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ। এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেও কাজ করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে গত ছয় বছর ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনের ছাদ ফুটো ও ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। আবার প্রচণ্ড গরমে বিদ্যালয়ের পাখা চুরি হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি নামলে ছাতা মাথায় নিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল ও বৈদ্যুতিক পাখা চুরি হয়। এর আগে থেকেই জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছিল পাঠদান। ফলে বর্তমানে কখনো গাছতলায়, আবার কখনো ছাতা মাথায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে।

গত ২৬ জুলাই রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট লম্বা এবং ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি একচালা টিনশেড ঘরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে টিনের ফাঁক দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে। এতে বই-খাতা ভিজে যায় এবং মেঝেতে পানি জমে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারকে ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্টের পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

শিক্ষকেরা জানান, গত এক বছরে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিদ্যালয়ের এমন দুরবস্থার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের মধ্যেও অনীহা তৈরি হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ায় গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। গত শুক্রবার বিদ্যালয়ের পাখা চুরি হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার বলেন, গ্রামবাসীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে গত ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ আটকে আছে। বর্তমানে তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে গেছে। বিদ্যালয়ের বেড়া ভাঙা থাকায় কয়েকবার পাখা ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এভাবেই ছয় বছর ধরে পাঠদান চলছে।

বিদ্যালয়ে চুরির খবর পেয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু।

এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

খাড়াতাইয়া গ্রামের বুড়িচং মডেল একাডেমির শিক্ষক মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, এটি শুধু দুঃখজনক নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্যও সরাসরি হুমকি। শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। কিন্তু এমন অনিরাপদ পরিবেশে সেই অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না। আমরা বারবার জানালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত। বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন