ফয়েজ আলম

বছর তিন-চাইর আগে কলিকাতার এক ভদ্রমহিলা তার ইউটিউব ভিডিওতে দাবি করলেন যে, অস্ট্রেলিয়া আছিল পাণ্ডবদের অস্ত্রালয়। তার মতে, সংস্কৃত ‘অস্ত্রালয়’ কথাটা থাইকাই ‘অস্ট্রেলিয়া’ দেশের নামটা আসছে। তিনি এমনকি ‘অস্ত্রালয়’ শব্দটা মুখে মুখে উচ্চারণ কইরা বুঝাইতে চাইছেন কীভাবে সংস্কৃত ‘অস্ত্রালয়’ থাইকা ‘অস্ট্রেলিয়া’

১৯৪৭ সালের পরে বাংলাদেশের মানুষের রোখ ঘুইরা যায় ঢাকার দিকে। নগরমুখী স্থানান্তর ও যাওয়া-আসা খুব বাড়ে। শহরের সুবিধা ও ভাষিক-সাংস্কৃতিক স্বভাব গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মোটামুটি শিক্ষিত অংশে প্রভাব ফেলতে থাকে। আবার শহরের কথ্যরীতিরে প্রভাবিত করে আঞ্চলিক ভাষাগুলাও।

আঠারো শতকের শেষাশেষি বাংলাদেশের ভাষা সম্পর্কে যে কথা লেইখা গেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সেইটা একটা জরুরি দলিলের মতো। তিনি সেই কালে চালু তিন প্রকার ভাষার মধ্যে জনমানুষের ভাষারে বলছেন ‘বিষয়ী লোকের বাংলা’।

যে সামনে হাজির নাই তার কাছে কথা পৌঁছানোর জন্য লেখার সৃষ্টি। আদিম কালে ছবি-মার্কা এইগুলা দিয়া মানুষ তার কথা অনুপস্থিত মানুষকে বুঝাইত। সেই অনুপস্থিত মানুষটা বা মানুষগুলা অইসব ছবি-মার্কা দেইখা বুইঝা নিত এইগুলাতে কী বলা হইছে।