খাজা মাঈন উদ্দিন

এ যেন বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের টাইব্রেকার অথবা বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে সুপার ওভারের নাটকীয়তা! আজকের বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব উত্তেজনা নেমে আসছে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটির শেষ ভাগে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণও যেন হয়ে পড়েছে বড়জোর সারাদিনের কারবার, যদিও নির্বাচন ব্যাপারটি কোনোভাবেই মাত

একসময়ের প্রথিতযশা চিকিৎসক প্রফেসর নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যার সংক্ষিপ্ত নাম ছিল ‘আধূনিক’, মানে ‘আমরা ধূমপান নিবারণ করি’। ঢাকার বাইরে এক জেলা শহরে দরিদ্রদের কল্যাণে ‘আমরা কিছু করি’ (আকিক) নামে একটি এনজিও দেখেছিলাম ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি।

এখন প্রশ্ন যা-ই থাকুক, তিন-তিনটি মিথ্যা ভোটের আয়োজকরা ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন আগেই, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। ফলে রাষ্ট্র মেরামতসহ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রাপ্য হয়ে পড়ে এই দেশের মানুষের এবং তারা তা আশাও করে। ভোটাধিকারের নৈতিক দাবির পাশাপাশি, জনতার আশায় উৎসাহ জুগিয়েছে উৎসবমুখর

চলমান রাজনীতির বৃহত্তর দুই শক্তি বিএনপি ও জামায়াত তাদের অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগেই। অন্যসব দল অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে কথাবার্তা বললেও এজেন্ডাভিত্তিক প্রাক-নির্বাচনি বিতর্কে যোগদান করেনি এখনো।

কী করে যেন একই সময়ে দেখা গেল পশ্চিমি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভারতে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের পতিত শাসক শেখ হাসিনার বর্বর হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে নির্বিকার সাফাই চেষ্টা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে দেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এটা কি শুধুই কাকতালীয় ব্যাপার?

শয়তানি কারবার ও কুকীর্তি অর্জনে পরিশ্রম এবং সেজন্য দুষ্ট লোকবল জোগাড়—এসব উদ্যোগে ঘাটতি দেখা যায় না, যখন ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থ নিশ্চিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।

কয়েক বছর ধরে প্রায়ই শুনে আসছি, দেশের গণমাধ্যম ভালো অবস্থায় নেই, ভালো নেই সংবাদ কর্মীরা। এই আক্ষেপ করেন পরিস্থিতির শিকার সাংবাদিকরা এবং ন্যাকামির সুরে একই কথা বলেন গণমাধ্যমের অধঃপতনের সময়ে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরাও।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ‘কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না’—এমন ঘোষণা শুনি ২০১৩ সালে রিপোর্টিংয়ের এক আড্ডায় জনৈক আওয়ামী উপকারভোগী সহকর্মীর মুখে। তাদের নির্ধারিত সময়কাল পরবর্তী ১০ বছর বা সংসদীয় সরকারের দুই মেয়াদ, যার মানে দাঁড়ায় দুটি জোচ্চুরির নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার

এই জিজ্ঞাসা চলমান শতাব্দীর শুরুর দিককার। শিক্ষামূলক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে, মিলেনিয়াল প্রজন্মের এক হাইস্কুলের ছাত্র কৈফিয়ত চাওয়ার সুরে প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় উপস্থিত সরকারি পরিকল্পনাবিদদের সামনে।

আওয়ামী লীগ ফিরছে, শেখ হাসিনা ‘চট করে’ দেশে ঢুকে পড়ছেন এবং নির্বাচন আয়োজন ভন্ডুল হয়ে যাচ্ছে—ইত্যাকার গুজব ইদানীং ডালপালা গজাচ্ছে। এই গুজব ছড়াচ্ছে একপেশে নেটওয়ার্কিং গ্রুপগুলোয়। এই গুজব ছড়াচ্ছে কিছুকাল মুখ বন্ধ রাখা কিছু মানুষের মুখে মুখে।

হাজারো হাসিনা-কাণ্ডের ভিড়ে কিছু কথা ভুলেও যায় মানুষ। ৫৭ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি ১৯৯৮ সালে, আর পচাত্তরের পরও তিনি প্রধানমন্ত্রী হোক না জবরদখলকারী! একটি সংসদ রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের নীতি হিসেবে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা ধ্বংস করে সংবিধানও লংঘন করেন তিনি।
