ডা. ওয়াজেদ খান

বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা লাভের একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন। আর এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন সর্বগ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি। কথিত নির্যাতন ও বঞ্চনার অভিযোগে সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দক্ষ ও মেধাবী ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। অন্তর্বর্তী সরক

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী অনেক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে সরকার প্রমাণ করতে পেরেছে যে অপরাধী যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। ইতিহাসের নজিরবিহীন এই ঘটনায় দলীয় নেতাসহ তিনি আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। এদিকে দেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় হবে সহসাই। তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ডজন ডজন মামলা বিচারাধীন।

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই দাবি এখনো কার্যকর হয়নি শিক্ষাঙ্গনে। গণঅভ্যুত্থানের যুগান্তকারী এই আকাঙ্ক্ষার ন্যায্যতা মেনে না নিয়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বার-কয়েক উল্লেখ করেছেন তার সরকারের যুদ্ধাবস্থার কথা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ত্রিমুখী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার সরকারের এই যুদ্ধ পতিত স্বৈরাচার, ভারত ও নির্বাচন ইস্যুতে দেশের প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটেছে স্বৈরাচারের। গঠিত হয়েছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আন্দোলনকারীরা অঙ্গীকার করেছেন রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কারের। গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা স্বৈরাচারমুক্ত একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, কল্যাণকর ও আইনের শাসনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।