সিদ্দিকুল ইসলাম, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের বরফ গলে নদীর পানিপ্রবাহ বেড়েছে এবং তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের চিলমারীর বিশাল অংশের চারণভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যে জমিগুলো একসময় ঘাসে পরিপূর্ণ ছিল এবং গরু-মহিষ চরানোর জন্য ব্যবহৃত হতো, তা এখন পানির নিচে বা নদীতে হারিয়ে

উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘতম নৌপথ চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই ফেরিপথে ফেরি সচল থাকার পরিবর্তে অচল থাকছে বেশি দিন। বারবার ড্রেজিং করেও ফেরি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি।

যুগের পর যুগ কেটে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া আর সুবিধা থেকে বঞ্চিত চিলমারীসহ কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন হলেও ১৯৬৫ সালের দিকে রেলপথ স্থাপন হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা গ্রামের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এ ভোগান্তি চলায় কোনো সমাধান না পেয়ে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে সড়কের ধারে গাছতলায় পাঠদান শুরু করেছেন।

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার ক্রমাগত ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারীর ১০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এ নদের ভাঙন রোধে দীর্ঘদিনেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। ভাঙনে নিঃস্ব মানুষকে পুনর্বাসনেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ।