তিস্তার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। কোথাও সদ্য প্রস্তুত করা জমি, কোথাও চলছে আগাম ভুট্টার বীজ রোপণ। পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন নারীরাও। কারও হাতে বীজ, কেউ ব্যস্ত সারি ধরে বীজ রোপণে। দিনভর পরিশ্রমের বিনিময়ে মিলছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি। এই আয়ই অনেক নারীর কাছে সংসারে স্বস্তি ফেরানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার বড় অবলম্বন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া তিস্তার চরাঞ্চলে দেখা যায়, চলছে আগাম ভুট্টা চাষের ব্যস্ততা। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পাঁচ-ছয়জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন নারীরাও। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তাঁদের কর্মব্যস্ততা।
এমনই এক নারী শ্রমিক পারুল বেগম। তিনি উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুট্টার বীজ রোপণ করে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরি পান তিনি। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়ও বহন করছেন।
পারুল বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন ভুট্টার বীজ রোপণ করে ৪০০ টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছি। নিজের আয় থাকায় সংসারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে।’
একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। শুধু স্বামীর আয়ে সব খরচ চালানো কঠিন। তাই নিজেরাও মাঠে কাজ করতে নেমেছি। এতে সংসারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন চরে আগাম ভুট্টা চাষ শুরু হয়েছে। এতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের এই অংশগ্রহণ সংসারে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে।’
তিস্তার চরে এখন শুধু ভুট্টার বীজই বুনছেন না নারীরা, বুনছেন নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও। তাঁদের শ্রমে যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছে কৃষি, তেমনি বদলে যাচ্ছে অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

