শহীদ নাজিমের মায়ের কান্না এখনো থামেনি

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

শহীদ নাজিমের মায়ের কান্না এখনো থামেনি
জুলাই যোদ্ধা শহীদ নাজিম

জুলাই আন্দোলনে শহীদ নেত্রকোনার বারহাট্টার নাজিম উদ্দিন নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে নাজিমের পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে সন্তান হারানোর বেদনা এখনো তাদের তাড়া করে। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার।

বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের রোস্তম আলী ও শিমুলা আক্তারের একমাত্র ছেলে সন্তান নাজিম উদ্দিন। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে শ্রমিক বাবার কষ্ট লাঘব করার। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভর্তি হয়েছিলেন বারহাট্টা সরকারি কলেজে। নাজিমের মা-বাবা ঢাকায় থাকত। মা শিমুলা আক্তার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বাবা শ্রমিক। একমাত্র বড় বোন নাজমার বিয়ে হয়ে গেছে । স্বামী-সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে থাকেন। নাজমার একটি মেয়ে রয়েছে, নাম আসফিয়া।

বিজ্ঞাপন

নাজিমের মা-বাবা ঢাকায় থেকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পাশাপাশি চিন্তিত ছিলেন ছেলে নাজিমের পড়াশোনা নিয়েও। ভেবেছিলেন নাজিমকে বারহাট্টায় তার নানাবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাবেন। সে চিন্তা থেকেই নাজিম বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের কাছে বেড়াতে ঢাকা গিয়ে নাজিম যুক্ত হয় জুলাই আন্দোলনে। ২৪ এর ৫ আগস্ট বিকাল তখন আনুমানিক ৪টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যখন গণভবন, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সারা দেশে বিজয় উল্লাস করছিল, তখনো বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বর্বরতা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা পূর্ব থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাজিম উদ্দিন। রাজপথে নিজের তাজা রক্ত ঢেলে শহীদ হন। একমাত্র আদরের ছেলেকে হারিয়ে মা শিমুলা আক্তার পাগলপ্রায়। নাজিমকে হারিয়ে যেন সব হারিয়ে ফেলেছেন তার মা-বাবা বোন, ভাগনে সবাই। শহীদ নাজিমের পরিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, উপজেলা পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নাজিমের স্কুলের বন্ধুরাসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে অনুদান, সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন।

মা শিমুলা আক্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমার পুতরে কতোদিন ধইরা দেখি না! আমার পুত কই? এখন কেলা আমারে আম্মা বইলা ডাকবো? আমি আমার ছেলের শার্ট-প্যান্ট দেইখা দেইখা সময় কাটাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন