৫০০ টাকা ভাড়ায় সন্ত্রাসী দিয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা

৫০০ টাকা ভাড়ায় সন্ত্রাসী দিয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা

চট্টগ্রামের চকবাজারে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটে (ডিডিএন) ৫০০ টাকা ভাড়ায় সন্ত্রাসী হামলা করিয়েছেন ডেভিড ইমন। এ ঘটনায় আরো নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব -৭।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে পুলিশ একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একইসাথে তিনটি ছুরিসহ চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, জনপ্রতি মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এ হামলা করান। ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ফোন কলে হুমকির পরপর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে জড়ো করে রাজু ও সানি এবং মাইকেল নামে ৩সন্ত্রাসী। পরে তারাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৭ এর চীফ কমান্ডিং অফিসার লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মাইকেল ওরফে রৌহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১) , মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সাঞ্জাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮), মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই নগরীর চকবাজার থানাধীন 'ডিজিটাল ডট নেট'-এর স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনকে 'ডেভিড-ইমন' নামে পরিচয়দানকারী এক সন্ত্রাসী হোয়াটসঅ্যাপে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কোম্পানি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই দুপুরে ৩০-৪০ জনের সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, সার্ভার মনিটর, ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব-৭ এর সিইও মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার ছয়দিনের মাথায় পুলিশ ও র‌্যাব ২১ জনেক গ্রেপ্তার করেছে। সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন সানি, রাজু ও মাইকেলের সহযোগিতায় ৩০-৪০ জনকে দিয়ে এ হামলা চালায়। আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে বলতে পারছি না। যে লোকগুলো দিয়ে হামলা করানো হয় তাদেরকে জনপ্রতি ৫০০ টাকায় ভাড়া করা হয়ছে।

র‌্যাবের সিইও বলেন, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জান আলী খান আমাদের কনসার্ন নয়। একজন লোক দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক থাকলে সে কিছু করতে পারে না। বিদেশ থেকে মাঝেমাঝে ফোনে অডিও রেকর্ড দিয়ে নিজের নামে হাইফ তুলে। সে আসলে কিছুই না। দেশে যারা আছে তারাই আমাদের মূল কনসার্ন। সাজ্জাদ আলী খান একসময় সন্ত্রাসী ছিল। সে এখন কোনকিছুই না।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন