নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে চলমান একটি সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের এ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় এ এলাকার সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নে চার দশমিক সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নারান্দিয়া-পাইলাটি সড়কটির দুই হাজার মিটার অংশ আগেই পাকাকরণ করা হয়েছিল। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাকি দুই হাজার ৭০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। ময়মনসিংহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’ কাজটি পেলেও স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মেসার্স লিমন লিখন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়া কাজটির তদারকি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গণকাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের একটি অংশে গাছ ও বাঁশের খুঁটির বেড়া দিয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে গত তিন দিন ধরে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাইলাটি গণকাপাড়া গ্রামের মৃত ইমান আলীর তিন ছেলেÑমুমরুজ আলী, মফিজ মিয়া ও মজিবর মিয়া। তাদের মালিকানাধীন প্রায় ১০ মিটার জায়গা দিয়ে সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে এ অংশে বেড়া ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বাধা সৃষ্টি করেন।
সড়ক নির্মাণকাজ তদারককারী প্রতিনিধি লিটন মিয়া জানান, এলজিইডির সার্ভে অনুযায়ী পূর্বের মাটির রাস্তার ওপর দিয়েই কাজ চলছিল। সড়কের প্রায় পুরো অংশে কোনো সমস্যা হয়নি। হঠাৎ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মুমরুজ আলী ও তার অপর দুই ভাই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তারা আমার কাছে টাকা চেয়ে ছিল। আমি চাঁদার টাকা না দেওয়ায় এ বাধা সৃষ্টি করেছে। লিটন মিয়া আরো জানান, এ ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জোরপূর্বক বাড়ি ভাঙার অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলা করেছে। অভিযুক্ত মুমরুজ আলী বলেন, আমার রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নিতে চেয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা কালাম মুনশি বলেন, এ রাস্তার জন্য অনেকেই জমি দিয়েছেন। আমরা কেউ বাধা দেইনি। মাত্র ১০ মিটার জায়গার জন্য পুরো উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা দুঃখজনক।
উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারেই কাজ চলছে। কেউ রাস্তার কোনো অংশে বাধা দিলে আমরা জোর করে কাজ করব না। আমরা চেষ্টা করব, তাকে বোঝাতে। যদি না হয়, এ অংশে কাজ বন্ধ থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

