বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চারটি শোধনাগারের মাধ্যমে দৈনিক ৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। আর চট্টগ্রাম ওয়াসা দৈনিক পানি উৎপাদন করে থাকে ৫০ কোটি লিটার। তবে পাইপ লিকেজের কারণে দিনে ৯ কোটি লিটার পানি অপচয় হয়। সেই হিসেবে ৪১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হলেও দিনে আরও ২৪ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে নগরে।
এবার সেই ঘাটতি পূরণে দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চায় সংস্থাটি। এক্ষেত্রে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে লিখিতভাবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াসার পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ফলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনইকো, রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশিকি ওসাওয়া এবং উপ-প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসাইনের সঙ্গে ওয়াসার কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, ২০০৬ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ সহযোগিতা যাত্রা শুরু হয়। প্রকল্পের প্রথম ধাপে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, ৬৭ কিলোমিটার পাইপলাইন, দুটি বৃহৎ রিজার্ভার এবং একটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করা হয়।
পরবর্তীকালে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত দ্বিতীয় ধাপে আরও একটি ১৪৩ মিলিয়ন লিটার দৈনিক ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, নতুন রিজার্ভার, ওভারহেড ট্যাংক, ৭৫০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৫৯টি ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া এবং আধুনিক স্কেডা সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসা দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ৩৬০ মিলিয়ন লিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) লিটারে উন্নীত হয়েছে, যা নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন (৬৫ কোটি) লিটার, যেখানে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন লিটারের ঘাটতি রয়েছে। তবে ওয়াসার পাইপ ত্রুটির কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হয়। ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের ফলে পানির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার এলাকায় অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন লিটার পানি শোধনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য জাইকার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

