শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এ সময় ষোলশহর স্টেশনে জেলা প্রশাসককে কাছে পেয়ে সাহায্যের আকুতি জানান এক ভিক্ষুক পরিবার। সাথে সাথে প্রাথমিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটিকে স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের অফিসে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার গভীর রাতে শীতবস্ত্র বিতরণে বের হন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি টিম। ষোলশহর রেল স্টেশন থেকে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন পয়েন্টে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে মহসীন কলেজ এলাকায় এলে ফুটপাতের এককোণে শীতে জবুথবু হয়ে বসে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের দিকেও নজর যায় তার।
আব্দুল মজিদ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোন কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিনে ভিক্ষাবৃত্তি করেন ও রাতে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকেন।
বিষয়টি জানতে পেলে শিশু কন্যাটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাবা মেয়ের পরিবারটিকে স্থায়ী পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমার নিজেরও একটি মেয়ে আছে। শীতার্ত ইয়াসমিনকে দেখে আমার নিজের সন্তানের নিষ্পাপ মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন পিতা হিসেবেও আমার মনে হয়েছে—এই শিশুটির জন্য কিছু করা উচিত। সেই দায় থেকেই ভিক্ষুক পরিবারটিকে অফিসে অসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পরিবারটি এলে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

