৪ জন অবরুদ্ধের পর মুক্ত

জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘিরে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘিরে স্থানীয়দের বিক্ষোভ
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। একইসাথে বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও পরিচালনার সাথে যুক্ত ৪ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে ক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ওই এলাকার মোট ৮টি শিল্প মিটারের মধ্যে ৪টি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বহু পরিবার হঠাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সংযোগ পরিচালনায় যুক্ত অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ তাজুল ও সফি মাস্টারসহ চারজনকে অবরুদ্ধ করে। একপর্যায়ে তারা জনতার কাছ থেকে আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ছিন্নমূল স্কুল মাঠ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়, পুলিশের কাছ থেকে উত্তেজিত জনতা অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিজেদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ভিড় সটাতে লাঠিচার্জ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেন। তবে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ চলার পর পিডিবি বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান।

কোটি টাকার চাঁদা ও বিদ্যুতের বকেয়া বিল

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাধারণ আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের মতো নয়। সেখানে মাত্র ৮টি শিল্প মিটারের মাধ্যমে পুরো এলাকার হাজার হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। শিল্প শ্রেণির মিটার হওয়ার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দিতে হয় ১৪ টাকারও বেশি।

আগে এই পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করতেন র‌্যাবের ওপর হামলা, র‍্যাবের এক কর্মকর্তাকে হত্যা ও বহু মামলার পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিন। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের পর মূল সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে গেলেও তাদের অনুসারীরা বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিজেদের দখলে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে প্রতিটি ঘর থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। যার মাধ্যমে কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে চক্রটি। বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকরা জানান, বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে পিডিবির অধীনে ৮টি মিটারে মোট ৭১ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা সত্ত্বেও অ্যাডভোকেট আমজাদসহ চক্রের কয়েকজন সদস্য তা পিডিবিতে জমা না দিয়ে নিজেদের কাছে গচ্ছিত রাখেন। বিল বকেয়া থাকায় পিডিবি বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার চারটি মিটারের সংযোগ কেটে দেয়, যা বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে।

সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও চাঁদা বাণিজ্যের অভিযোগ

মো. সালমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এলাকার বেশিরভাগ মিটারই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও আলী আক্কাসের নামে নিবন্ধিত। সম্প্রতি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণকারী চক্রের সাথে পলাতক সন্ত্রাসী ইয়াসিনের একটি কল রেকর্ডও ফাঁস হয়েছে। অধিবাসীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালালেও অঘোষিত নিয়ন্ত্রক ইয়াসিনকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফলে বর্তমানেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বাণিজ্য, পরিবহন চাঁদাবাজি, দোকান বাণিজ্য এবং পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির মতো অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াসিন বাহিনী।

সার্বিক বিষয়ে ছিন্নমূল স্কুল মাঠ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান জানান, “বিদ্যুতের ৪টি মিটার কেটে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দারা মিটার পরিচালনাকারী কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছি। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।” লাঠিচার্জের বিষয়ে স্থানীয়দের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, জনতার ওপর কোনো প্রকার লাঠিচার্জ করা হয়নি; পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...