উপজেলা হচ্ছে মহিপুর, প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ

উপজেলা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

উপজেলা হচ্ছে মহিপুর, প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ
ছবি: আমার দেশ

পটুয়াখালীর মহিপুর পুলিশি থানাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর ফলে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নতুন ‘মহিপুর উপজেলা’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১৪, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী-মহিপুর) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন উল্লেখ করেন, মহিপুর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে মহিপুর থানা চারটি ইউনিয়ন (মহিপুর সদর, ডালবুগঞ্জ, লতাচাপলী ও ধুলাসার) এবং একটি পৌরসভা (কুয়াকাটা) নিয়ে গঠিত।

এখানে দেশের অন্যতম বৃহত্তর মহিপুর-আলিপুর মৎস্যবন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন অবস্থিত। পাশাপাশি সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে মহিপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বিপুল জনসংখ্যার প্রশাসনিক সেবার চাহিদা, মৎস্য বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা জনস্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পত্রটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মহিপুরসহ আশপাশের এলাকায় আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহিপুর-আলিপুর মৎস্যবন্দর ঘিরে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন হবে এবং সাধারণ মানুষকে আর দূরবর্তী কলাপাড়া সদরে গিয়ে প্রশাসনিক সেবা নিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে মহিপুরকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত গতি পাবে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. কালিম উল্লাহ বলেন, ‘মহিপুর উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে মৎস্যবন্দর, পর্যটন শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এলাকার মানুষকে প্রশাসনিক সেবা নিতে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, নতুন উপজেলা হলে তা অনেকাংশে কমে আসবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে।’

মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, ‘মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। দ্রুত মহিপুরকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত হবে এবং এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন