রাজবাড়ী কোর্টের সাব ইন্সপেক্টর জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের ভিডিও দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টরের নাম ইস্রাফিল হোসেন। তিনি রাজবাড়ী কোর্টের সাব ইন্সপেক্টর (সিএসআই)।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দারোগা কোনো ফাইল স্বাক্ষর করাকালীন জনৈক ব্যক্তি তাকে টাকা দিচ্ছেন, তিনি টাকা গ্রহণ করে পকেটে রেখে তাকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে । এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তাকে ওই দিনই পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সিএসআই ইস্রাফিলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে থাকতে পারে।
এর মধ্যে কিছু অ্যাডভোকেট আছেন, যারা ব্যাড ইনটেনসনে বিষয়টি ভিডিও করিয়েছেন। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
রাজবাড়ী আদালতের বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী জানান, সিএসআই জিম্মি করে টাকা নেন। অ্যাভোকেট জিয়াউর রহমান বলেন, জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ কোর্টের মাধ্যমে হাজির ও জেলখানা থেকে মুক্ত করার জন্য কোর্ট দারোগার স্বাক্ষর সংবলিত আদালতের কপি যখন সিএসআইয়ের কাছে যায়, তখন প্রত্যেক আসামির বিপরীতে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করেন।
সেই টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখেন। ফলে আসামিকে জেলখানা থেকে বের করতে বিলম্ব হয়। আবার আসামি হাজির করানোর সময় একইভাবে কোর্ট ইন্সপেক্টরের স্বাক্ষর লাগে। এ স্বাক্ষরের প্রধান কাজগুলো করে থাকেন (সিএসআই) কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর। এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামসুল হকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাব ইন্সপেক্টর ইসরাফিলকে নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে এতে আমরা বিব্রত। যে কারণে তাকে লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে পরবর্তীকালে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

