পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস নীলা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরিপ্রার্থী

রাইসুল ইসলাম, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)

পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস নীলা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরিপ্রার্থী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চাকরি চান পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস করা অদম্য নীলা খাতুন। জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের চরবরধুল গ্রামের ওসমান গণির মেয়ে মোছা. নীলা খাতুন।

জন্মগতভাবে তার দুটি হাত নেই। কিন্তু শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। দুই হাত না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই তিনি পায়ের সাহায্যে লেখা, খাওয়া, পোশাক পরা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ নিজেই করে আসছেন। পরিবারের কাজেও তিনি নিয়মিত সহযোগিতা করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সম্পন্ন করেছেন মাস্টার্স। তবুও যোগ্যতা ও শিক্ষাগত অর্জন থাকা সত্ত্বেও এখনো একটি চাকরির অপেক্ষায় প্রতিনিয়ত দিন কাটছে তার।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাজীবনে চরবরধুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল এবং সিরাজগঞ্জের আহমেদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল/মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুবার অংশ নেন।

তবে তার দাবি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো চাকরির সুযোগ পাননি। তবুও তিনি হতাশ নন।

নীলা খাতুন বলেন, ‘আমি কখনো আমার প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা মনে করিনি। পড়াশোনা করেছি, নিজের কাজ নিজেই করি। আমি শুধু চাই, আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক এবং কাজ করার একটি সুযোগ চাই। তাই আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি একটি চাকরি চাই।’

সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিশেষ কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আল কায়েস বলেন, ‘তার যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করা হবে। নীলা খাতুনের মতো একজন সংগ্রামী ও মেধাবী নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...