তিস্তা নদী তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং জীবিকা নির্বাহে অনিশ্চয়তার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতুর দক্ষিণ প্রবেশমুখে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে তিস্তা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, অধ্যক্ষ আব্দুল গনি, অধ্যক্ষ শফিকুল আলম এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন ও পানিসংকট এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর সমাধান দেখা যায়নি। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব মো. রায়হান সিরাজী বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীভাঙন, বন্যা ও পানিসংকটের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ এখনো তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন আর শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনায় এনে তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

