দীর্ঘ এক যুগ পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের দ্বিতীয় বৃহত্তর সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে। ২৪টি পদের বিপরিতে ৫৩ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাব চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তবে নির্বাচনের আগের দিন বিকেলে একটি প্যানেল এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
চেম্বার সূত্র জানায়, সংগঠনে ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এভাবে ২৪ সদস্যের পর্ষদ গঠিত হবে। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামের দুটি প্যানেল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। এ ছাড়া আরো ১৩ জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর তৎকালীন পর্যদ পদত্যাগ করলে তৈরি হয় শূন্যতা। এরপর থেকেই একটি অবাধ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ও ট্রেড গ্রুপ টাউন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিতে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করে একটি পক্ষ। যার ফলে ঝুলে যায় চেম্বারের নির্বাচন। অবশেষে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন আয়োজনের সব বাধা উঠে যায়। এরপর থেকেই পুরোদমে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেয় নির্বাচন কমিশন।
কিন্তু আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে তরিঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজনের কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। তবে ব্যালটে তাদের নাম ও প্রতীক রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এই নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে চট্টগ্রাম চেম্বারে। সকাল থেকে দলে দলে ব্যবসায়ীরা এসে ভোট দিচ্ছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের। এক পক্ষ ভোট বর্জন করে মাঠ ছাড়লেও নির্বাচনী উৎসবে খুবএকটা ভাটা পড়েনি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য। ১৩ টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় জমজমাট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়র্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রের চারপাশে নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাধারণ সদস্য আছেন ৪ হাজার ১ জন আর সহযোগী সদস্য আছেন ২ হাজার ৭৬৪ জন। মোট ৬ হাজার ৭৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারে সবশেষ প্রত্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। এর পর থেকে স্থানীয় এমপি এমএ লতিফ যে কমিটি করে দিতো সেই কমিটিই সৈরাচারী স্টাইলে চালাতো চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স। সবশেষ কমিটিতে এমএ লতিফের ছেলে ওমর হাজ্জাজ আর আর আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ী নেতা এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলমের মেয়ে রাইসা মাহবুবের দখলে ছিল চট্টগ্রাম চেম্বার। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর পদত্যাগ করেন ওমর হাজ্জাজ, রাইসা মাহবুবসহ পুরো পর্ষদ।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

