উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। এ জেলার অবস্থান হিমালয় পাদদেশের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিবছর ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডার তীব্রতা অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ফলে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষকে চরম বিপাকে পড়তে হয়।
কয়েক দিন ধরে শীত পুরোপুরি জেঁকে বসেছে লালমনিরহাটসহ উত্তরের জেলাগুলোতে। তাপমাত্রা কমে আসছে ধীরে ধীরে। সকালে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সব বয়সী মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের মধ্যে শীতের দাপট আরো বাড়বে।
এদিকে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যার হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। এতে চিন্তিত অভিভাবকরা। গত কয়েক দিনে ২৫০ শয্যার লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রায় দুই শতাধিক শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে শয্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছে দ্বিগুণ রোগী। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও বাড়ছে রোগীর ভিড়।
স্বজনেরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত নানান রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের শেফালী বেগম বলেন, আমার শিশুপুত্রের বয়স মাত্র দেড় বছর, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনদিন হলো ভর্তি করিয়েছি। বেড না পাওয়ায় বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছি।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায় বলেন, শীতের কারণে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। অধিকাংশই সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, শীত বাড়ায় আক্রান্ত বেশি হচ্ছে শিশুরা। রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

