সুনামগঞ্জে শেষ হয়েছে ভোটের প্রচারণা। নেমে এসেছে ভোটের মাঠের উত্তাপ। দূর-দূরান্ত থেকে খোশমেজাজে ভোটের ছুটি নিয়ে ফিরছেন শত শত মানুষ। কাল ভোটদানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলার প্রায় ২১ লাখ ভোটার। এদিকে কড়া নিরাপত্তায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ মাঠে রয়েছে সতর্ক অবস্থানে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরে বাস করা নারী-পুরুষ, তরুণ ঈদের আনন্দ নিয়ে গতকালই নিজ গ্রামে চলে গেছেন। শহর হয়ে পড়েছে ফাঁকা। ঢাকা থেকে অসংখ্য ভোটার রাতেই বাড়ি ফিরেছেন। ভোটারদের চোখেমুখে যেন বাড়তি আনন্দ। একদিকে ঘরে ফেরা, অন্যদিকে ভোটের উৎসব। এ দুই মিলে মনে ঈদের খুশি।
ঢাকা থেকে শাল্লায় ভোট দিতে এসেছেন হিমাংশু তালুকদার নামে এক কর্মজীবী। তিনি জানালেন, ‘আমরা শতাধিক ভোটার রাতেই বাসে করে বাড়ি ফিরেছি। এতদিন পর নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বাড়ি এসেছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব এবং গণভোটে একটা হ্যাঁ ভোট দেব।’
তাহিরপুর এলাকার জুনাব আলী বলেন, ‘আমি ঢাকা চাকরি করি। ভোটের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। গত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার মহা আনন্দে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।’
তরুণ ভোটারটা জানান, এতদিন দেশে ডামি ভোট, রাতের ভোট হয়েছে। ভোটের স্বাদ তরুণেরা পায়নি। এবার দল বেঁধে তরুণেরা ভোট দেবেন। আমরা চাই দেশের পরিবর্তন, নতুন বাংলাদেশ।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব বলেন, ‘যেখানে যাই, তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট ঘিরে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামে গ্রামে তরুণেরা পরিবর্তনের স্লোগান তুলছেন। তরুণ ও নারী ভোটাররাই হবেন এ নির্বাচনের গেম চেঞ্জার।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আমার দেশকে বলেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মাঠে রয়েছে। আমরা চাই, এবার যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ফাঁকা রাজধানীতে যান চলাচল কম, মোড়ে মোড়ে কড়া তল্লাশি