সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

হবিগঞ্জে পর্যটন হোটেলে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে পর্যটন হোটেলে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটন হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির নেতারা। ছবি: আমার দেশ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কয়েকটি পর্যটন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপি।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আবুল চুনারুঘাটের শাহজানপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা বিএনপির নেতারা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ত্রিপুরাপল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে মোস্তাক হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেল, মাসুম বিল্লাহ রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি পর্যটক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত উচ্ছেদ কার্যক্রম বা পূর্বঘোষণা ছাড়াই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিএমসি সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই ভাঙচুর চালানো হয় বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যদি মাসোহারা দিতাম, তাহলে আমাদের হোটেলে ভাঙচুর হতো না। কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই হামলা করা হয়। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী পর্যটন এলাকায় আমার হোটেল পরিচালনা করে আসছি। এরপরও শফিকুল ইসলাম আবুল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হোটেলের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।

উপজেলা বিএনপির নেতারা বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানে আইনের শাসন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক তালুকদারসহ অনেকে। এছাড়া ত্রিপুরাপল্লীর বাসিন্দা সোমা দেব, চিত্র রঞ্জন বর্মাসহ স্থানীয় অনেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন