আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জাতীয় পার্টির দুর্গে এবার কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা

হাসান উল আজিজ ও আনোয়ার বাবু, লালমনিরহাট

জাতীয় পার্টির দুর্গে এবার কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসন। আসনটি থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত মরহুম মজিবর রহমান একাধারে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিনা ভোটে ২০১৪, রাতের ভোটে ২০১৮ এবং ডামি প্রার্থীর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখানকার নেতাকর্মীরা পলাতক কিংবা আত্মগোপনে আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভোট দিতে পারেনি সাধারণ জনগণ। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এবার তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে বলে আশায় বুক বেঁধে আছে। মুক্ত পরিবেশে এবার ভোটের হাওয়ায় দারুণ গতি এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। বর্তমানে তারা নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন । প্রার্থীরা নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সংসদীয় আসনে ছয় প্রার্থীকে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজন বিএনপির। জেলা বিএনপির সহসভাপতি রোকনউদ্দিন বাবুল ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী আদিতমারী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন রোকন উদ্দিন বাবুল। দীর্ঘদিন পর এবার ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির এই নেতা। ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের হাটবাজার থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে এই নেতাকে।

রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এতদিন মানুষ তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করবেন এবং এলাকার প্রধান সড়কগুলো সংস্কার ও নতুন রাস্তা নির্মাণসহ এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন বলে জানান।

তবে এ আসনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমও এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি জানান, দলের মনোনয়নে নির্বাচনে জয়ী হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বসে নেই। আসনটিতে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার, পাড়া-মহল্লার লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনছেন এবং তার সাধ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করছেন।

অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। অমুসলিমদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও জোর দিতে চান তিনি। এছাড়া দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে নবগঠিত জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামালকেও এই সংসদীয় আসনে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি জাতীয় পার্টি থেকে একাধারে সাতবারের এমপি মরহুম মজিবর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে। বাবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি ও অবস্থান ছেলের রাজনীতিতে প্রবেশকে সহজ করবে বলে মনে করেন এলাকার অনেকে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল আমার দেশকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এলাকার উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এলাকার মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা দরকার।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমানকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জের ভোটার ও জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। মুফতি মাহফুজুর রহমান আমার দেশকে জানান, এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে কাজ করতে চান তিনি। তিস্তা নদীর ভাঙনরোধ করে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি দূর করে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবেন তিনি। পাশাপাশি তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদকে (উত্তরাঞ্চলের পক্ষ থেকে) গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। রাসেল আহমেদ আমার দেশকে বলেন, মানুষের কথা শুনছি, তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো শুনে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। নির্বাচিত হলে এই এলাকার উন্নয়নসহ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন