চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।
বৃহস্পতিবার ( ২০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে উপস্থিত ও পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আরও একজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করলেও সময়ের স্বল্পতায় তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। এ জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
এদিন মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে জামিনের আবেদন এবং রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুটিই নামঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ সময় আদালতের বাইরে ইসকনপন্থি লোকজনের উপস্থিতিও দেখা যায়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর জেরা শেষ করার জন্য আসামিপক্ষ, বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে, প্রায় ছয়বার সময়ের আবেদন করা হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরাও সম্পন্ন হয়নি।
তিনি বলেন, আজ তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্যও আসামিপক্ষ সময় চেয়েছে। বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করার প্রবণতা মামলার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিতে চায়।
এর আগে গত ২০ জুলাই মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর জেরা সম্পন্ন করার জন্য আদালত ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশকে কেন্দ্র করে তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আদালত তা গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে রয়েছে। মামলার ৩৯ আসামির মধ্যে ২৭ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং ১২ জন পলাতক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

