নয় শ্রমিকের প্রাণহানির পরও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস শিপইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ। এবার জাহাজটির বাকি দুই ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানিতেও বিষাক্ত গ্যাস বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ওই দুই ট্যাংকের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠিয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজের ভারসাম্য ঠিক রাখতে চারটি পার্টিশনের ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি রাখা ছিল। ধাপে ধাপে এসব পার্টিশন কেটে জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। চার নম্বর পার্টিশন কাটার পর তিন নম্বর পার্টিশনে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে এক ও দুই নম্বর পার্টিশন অক্ষত রয়েছে। ওই দুই ট্যাংকের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, বাকি দুটি ট্যাংকের পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে নমুনা সংগ্রহের সময় জাহাজের তিনটি ট্যাংকের তলদেশে কালো রঙের ঘন স্লাজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এসব স্লাজে রাসায়নিক উপাদান কিংবা বিষাক্ত গ্যাসের উৎস থাকতে পারে। পানি বা স্লাজ নাড়াচাড়া, অপসারণ কিংবা পরিষ্কারের সময় আটকে থাকা গ্যাস বেরিয়ে এলে ফের প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যে ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তার পরবর্তী ট্যাংকগুলোতেও বিষাক্ত গ্যাস থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে ট্যাংকের পানি অপসারণ, স্লাজ পরিষ্কার কিংবা শ্রমিক প্রবেশ করিয়ে কাটিংয়ের কাজ শুরু করলে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে জাহাজের ট্যাংকে কাটিংয়ের সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। দুর্ঘটনার পর জাহাজে গ্যাস পরীক্ষা, গ্যাসমুক্ত সনদ, ট্যাংকে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা যাচাই এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
নতুন করে বাকি দুই ট্যাংকে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল ও বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ছাড়া কোনো শ্রমিককে বাকি ট্যাংকে প্রবেশ করানো যাবে না। একই জাহাজে আর কোনো প্রাণহানি ঠেকাতে প্রতিটি ট্যাংক বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

