জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমার আয় দিনের মতো স্পষ্ট। আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ২২ বছর প্রবাসী ছিলেন। কোনো রকমে আমাদের সংসার চলত। আপনারা চাইলেই মোবাইলে আমি কত টাকা ইনকাম করি সব জানতে পারবেন। আমার বছরে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ইনকাম। প্রতি মাসে ১ লাখের চেয়ে একটু বেশি। জুলাই বিপ্লবের পর কমেছে , বিপ্লবের আগে অনেক বেশি ছিল। অন্যদের ইনকাম বাড়ে, কিন্তু আমার ইনকাম কমেছে। সব মিলিয়ে আমার সম্পদ আছে ৫০ লাখ টাকার।’
শুক্রবার সকালে দেবিদ্বার পৌর মিলনায়তনের হলরুমে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, ‘সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী। তিনি স্বৈরাচারের কাছে কখনো আপস করেননি। স্বৈরাচারের অত্যাচার-নির্যাতনেও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছেন। ওনার জন্য পুরো বাংলাদেশের মানুষ কেঁদেছে। আমাদের এমন জীবন গঠন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কি চান একজন প্রধানমন্ত্রী আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী হয়েই থাকুক? আপনারা পরিবর্তন চান কি না? আপনারা পরিবর্তনের পক্ষে কি না? আপনারা ইতিবাচকের পক্ষে কি না? নতুন নেতৃত্বের পক্ষে কি না? যদি পরিবর্তনের পক্ষে হন, সংস্কারের পক্ষে হন, অবশ্যই আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় থাকতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে।’
পলাতক শেখ হাসিনার শাসনামলের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসিনার আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু তার আমলে দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। হাসিনার চাটুকারগুলো সারা দিন ফেসবুকে লেখালেখি করত। পত্রিকায় তার পক্ষে লম্বা লম্বা কলাম ছাপা হতো। আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ আপনাদের দ্বিমত প্রকাশের জন্য লড়াই করব। আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ আমার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য লড়াই করব। আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ আমার সামনে বসে আমার সমালোচনা করার জন্য লড়াই করব। গত দেড় বছরে দেবিদ্বারে যেভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল, আমি যত দিন বেঁচে থাকি, এ স্বাধীনতা থাকবে। আমার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে, আমি প্রতিবাদ করিনি। এ প্রতিবাদ আল্লাই করেছেন।’
রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতা আছেন, যারা ট্যাবলেটের ব্যবসা করেন। আবার তারাই ইয়াবা ট্যাবলেট বন্ধের ঘোষণা দেন। দেবিদ্বারে অনেক নেতা আছেন, যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারাই এই ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেন, তখন আমাদের সন্দেহ জাগে।’
প্রবাসীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, ভোট যাকে ইচ্ছা তাকেই দেন। তবে আপনি আপনার ভোটটা অবশ্যই দেবেন। রেমিটেন্স আগামী দিনে নির্বাচনের জন্য ফ্যাক্টর—এটা বুঝতে পারলেই সরকার রেমিটেন্স-যোদ্ধাদের সুবিধা দিবে।’
দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থনকারী জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদসহ জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

