ভারতের পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে সহস্রাধিক কৃষকের ফসল

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

ভারতের পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে সহস্রাধিক কৃষকের ফসল

ভারতের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লায় আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলি আমতলী এবং বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকেরা কোমরপানিতে নেমে যা সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী গোমতী চরের কৃষক সুজন বলেন, ‘প্রতি বছর ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি হয়। চিচিঙ্গার জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখনো বিক্রি শুরু করিনি। অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।’

বুড়িচং উপজেলা ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক জানান, প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। হঠাৎ গোমতীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।

আরেক কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটাশাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে ভেসে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটাশাক, চালকুমড়া, মুলাসহ বিভিন্ন সবজি অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কৃষকদের ভাষ্য, পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব ফসল উদ্ধার করে বিক্রি করে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এতে লাখ লাখ টাকার ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বাড়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিজেও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জরিপ শেষে কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...