আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে বইছে ভিন্নধর্মী নির্বাচনী হাওয়া। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন এমন দুজন, যারা বর্তমানে কারাগারে বন্দী। আইনি জটিলতা কাটিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর এখন ‘কারাগার বনাম মাঠের’ লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন স্থানীয় ভোটাররা।
কারাবন্দী এ দুই প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল আলম শিমুল এবং গণ-অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী কাবির মিয়া।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল’। দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জামিন না পেলে সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনরাই তার পক্ষে মাঠ চষে বেড়াবেন। কারান্তরীণ প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন তার অনুসারীরা।
অন্যদিকে, কাশিমপুর কারাগারে বন্দী থেকেই ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া। তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সাতটি। শুরুতে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও দমে যাননি তিনি। উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। ‘মুক্তি’ না মিললে কারাগার থেকেই তিনি এ নির্বাচনী যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হন, তবে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। এ আইনি সুযোগেই বিচারাধীন মামলায় বন্দী থাকা অবস্থায় তারা লড়ছেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত সব বিষয় আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি এ দুই কারাবন্দী প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের মধ্যে এটি আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

