দুধের দাম না বাড়ায় দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

দুধের দাম না বাড়ায় দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা

গবাদি পশুর খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি দুধের দাম। ফলে উৎপাদন বাড়লেও কমেছে লাভ। মিল্কভিটা প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় সংগ্রহ করে, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় পর্যাপ্ত মনে করছেন না খামারিরা।

খামারিদের ভাষ্য, পাঁচ বছর আগে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল প্রায় ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে ভুসি, খৈল, ভুট্টা, মাসকলাই, মসুর ও বিভিন্ন ধরনের ফিডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে দুধের দাম বাড়েনি। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা। তবে শুধু মিল্কভিটার ওপর নির্ভরশীল না থেকে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিল্কভিটার একটি দুগ্ধজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠে শত শত গরুর খামার। শাহজাদপুর উপজেলায় ছোটবড় মিলে প্রায় ৩০ হাজার গরুর খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন পাঁচ লাখ লিটার দুধ যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। মিল্কভিটার পাঁচ শতাধিক সমবায় সমিতির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ লিটার দুধ সরবরাহ করে প্রায় ২৫ হাজার সদস্য। বাকি দুধ চলে যায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে। খামারিদের অভিযোগ সমিতিভুক্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে ৪৫ টাকা থেকে ৪৭ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করতে হয় তাদের। গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়লেও দুধের দাম না বাড়ায় লোকসানে পড়ে গাভি পালনে আগ্রাহ হারাচ্ছেন খামারিরা।

খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিল্কভিটা প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় সংগ্রহ করে। খোলা বাজারে বিক্রি করলে মিলতে পারে প্রায় ৫৫ টাকা।

শাহজাদপুরের দখলবাড়ি এলাকার খামারি মিজানুর রহমান মিন্টু জানান, তার খামারে ১০০ গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি দুধাল গাভি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয় তার খামারে। কিন্তু খাদ্যের দাম বাড়লেও দুধের দাম না বাড়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।

খামারি মুকুল মোল্লা বলেন, আমরা দুধের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। গবাদিপশুর খাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় দুধের দাম বাড়েনি। যে কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন বলেন, শুধু মিল্কভিটার ওপর নির্ভরশীল না থেকে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। খামারিদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন রোগের টিকাদান, কৃমিনাশক ওষুধ বিতরণ এবং বিনামূল্যে ক্ষুরা ও তড়কা রোগের টিকা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শাহজাদপুরের মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এসএম আমীর হামজা শাতিলের মুঠোফোনে কল দিলে তার ব্যক্তিগত সহকারী কৃষিবিদ সালাউদ্দিন কল রিসিভ করেন। তিনি বলেন, স্যার ছুটিতে আছে, পরে ফোন করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন