আগাম ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির আশায় বিষাক্ত কীটনাশক এবং ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ করার কারণে পঞ্চগড় জেলায় চলতি মৌসুমে সবজি চাষে বিপর্যয় ঘটেছে। পঞ্চগড় জেলায় এবার শীতকালীন শাকসবজির দাম আকাশচুম্বী। এরই মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা, বরবটিসহ নানা ধরনের শীতের সবজি। প্রতিটি শীতের সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০, বাঁধাকপি ১২০, গাজর ২০০, করলা ৬০, শসা ৬০ এবং টমেটো ২০০ টাকা কেজি দরে।
কৃষকরা বলছেন, শেষ সময়ে টানা বৃষ্টিপাত, অতিরিক্ত কীটনাশকসহ বিভিন্ন বালাইনাশক ওষুধ প্রয়োগ করার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এবার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার কারণে শীতকালীন সবজির আবাদ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিম চাষে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া, বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া, সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী, কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা, শালবাহানহাট এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হয়ে থাকে। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজির আবাদ করে তিনি ২০ লাখ টাকা আয় করে থাকেন। শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ এবং কচুর লতি চাষ করছেন তিনি। চলতি বছরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে এবং বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় এবার সবজি চাষ ভালো হয়নি। সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও টানা মেয়াদে থাকার কারণে সবজি চাষে চাষিদের কিছুটা বিঘ্ন পেতে হয়েছে। সে কারণে এবার আগাম সবজির সরবরাহ বাজারে নেই।
বৃষ্টিপাত কম হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

