শ্রমিকের সংকট ও ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশাহারা কৃষক

আমার দেশ ডেস্ক

শ্রমিকের সংকট ও ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশাহারা কৃষক
নিয়ামতপুরে পানির নিচে ধান। শ্রমিক সংকটে কাটতে পারছেন না কৃষক। ছবি: আমার দেশ

ক্রমাগত ভারি বর্ষণে নিচু এলাকার পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। এতে পানিতে পচে মজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধান। অন্যদিকে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুম চলছে। মধুপুর উপজেলার বিল-ঝিলের নিচু এলাকায় সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠলেও কৃষকের চোখে নেই ঘুম ও স্বস্তি। একদিকে চলছে ধান ঘরে তোলার মৌসুম, অন্যদিকে অকাল বৃষ্টি।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে চলছে তীব্র শ্রমিক সংকট ও আকাশচুম্বী শ্রমিক মজুরি। সব মিলিয়ে কৃষকের সোনালি এই সম্পদ ঘরে তোলা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন এ অঞ্চলের কৃষক।

এরই মধ্যে ধান বিক্রি করতে গেলে সেখানেও পাচ্ছেন না তারা ন্যায্যমূল্য। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে মধুপুরে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিচু এলাকায় কমপক্ষে ৩৫ হেক্টর জমি আগাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করলেও শ্রমিকের অভাবে যথাসময়ে পেকে যাওয়া ধান দ্রুত ঘরে তোলা নিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা । স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, এ বছর ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি অন্য বছরের তুলনায় বেশি বেড়েছে। দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। চুক্তিতে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে গুনতে হচ্ছে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে । এর সঙ্গে মাড়াই খরচ আরো ১ হাজার ২০০ টাকা।

অথচ ধান বিক্রি করতে গেলে মাথায় হাত পড়ছে কৃষকের। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, হাওদা বিল এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করেছি। পানি নামতে শুরু করেছে। বিলের পানি স্থায়ীভাবে নিষ্কাশনের জন্য উপজেলার ২২টি খাল খননের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি কমবে।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুরে বোরো ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষকের জমিতে পাকা ধান পড়ে থাকছে। এতে একদিকে যেমন ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা বাড়ছে এবং ছাতড়া বিলে উজানের পানিও বাড়ছে। এদিকে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার উপসহকারী কর্মকর্তার তথ্যমতে পাঁচ হেক্টর জমির ধান কাটতে বাকি রয়েছে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম, টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে চাপে পড়েছেন কৃষকরা। দেড় মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না একজন শ্রমিকের মজুরি। ফলে পাকা ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তিন বেলা খাবারসহ একজন শ্রমিকের পেছনে খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আরো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান পেকে গেছে। আধাপাকা অবস্থায় আছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছি। দোকানের ধারদেনা ও ঋণ কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। একযোগে মাঠে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন