রংপুরের বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় নারীসহ ছয়জনকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগরহাট এলাকায় এই বালু ব্যবসা বেশি সক্রিয় বলে জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সোনারপাড়া এলাকার ফোকলা জামান, অহিদুল হক, লোকমান মিয়া, আমীর হোসেন, দালালপাড়ার রাসেল, বিছি ইলিয়াস, অরুন্নেছা এলাকার জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, এদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং চলতি মাসের ২ মার্চ স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন। তবে এখনো এর কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী সজীব মিয়া (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নদীর নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে তার স্ত্রী, মা সোনাভান ও বোন ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।
সজীবের মা সোনাভান বলেন, রাতে নদীর পাশে তাদের বন্দোবস্ত নেওয়া জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। বাধা দিতে গেলে বিএনপি নেতা অহিদুল হক ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার ও আখতারুল হক এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত এক পাহারাদারকে সজীব মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

