আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কে হচ্ছেন বিসিসির প্রশাসক, আলোচনায় আলাল ও রহমাতুল্লাহ

বরিশাল অফিস

কে হচ্ছেন বিসিসির প্রশাসক, আলোচনায় আলাল ও রহমাতুল্লাহ

দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শীঘ্রই বিসিসির প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে কে হবেন বিসিসি’র প্রশাসক, এ নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান আলোচনা। ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক ও স্থানীয় গণমাধ্যম গুলোতে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম।

এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাছের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহকে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির ছয়জন নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই বরিশাল নিয়েও এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপ নেতা আমার দেশকে বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দেওয়া হতে পারে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে সুসংগঠিত করে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করেছিলেন। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি ৩শ ৫০টিরও বেশি মামলার আসামী হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। দল ক্ষমতায় গেলেও এখনো তাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বশাতে পারেনি। হয়তো দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিসিসির প্রশাসক পদটি দিয়ে তাকে মূল্যয়িত করবেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। গুঞ্জনটি ঘিরে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও অবদান রাখা নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন। বরিশালের সন্তান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশাল বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনি যুবদলে যুক্ত হন। তিনি বরিশাল-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এদিকে বিসিসির এ গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর নামও উঠে এসেছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজধানী ঢাকায় রহমাতুল্লাহর অবদান ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবে দু’বছর ধরে তিনি বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম সারির নেতা হিসেবে অংশ নিয়ে বরিশালবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনিও এ পদটি পেতে পারেন বলে দাবী করছেন তার সমর্থকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন—সেটি এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বরিশালবাসী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন